সোনার দোকানে চুরির মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে গ্রেফতারের দাবিতে সিতাইয়ে একটি জনসভার আয়োজন করে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই সোনার দোকানে চুরির মামলায় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে আদালত। আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) ২০০৯-এ দু’টি সোনার দোকানে চুরির মামলায় পরোয়ানা জারি হয়। নিশীথ প্রামাণিকের (Nisith Pramanik) বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ থাকায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জেলার গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এদিনের সভাতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়া বলেন, “ভারতবর্ষের সংবাদ মাধ্যম বিদেশে যাঁরা দেখে তাঁদের কাছে ভারতবর্ষের লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। ভারতবর্ষে এত বড় গণতান্ত্রিক দেশ। সেই দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোনার দোকানে চুরির কিনা আসামি। তিনি জেল খেটেছেন। যাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু হয়েছে। সে দেশের কী হতে পারে।” এখানেই শেষ নয়। নাগরিকত্ব ইস্যুতেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে খোঁচা মারতে ছাড়েননি তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর কথায়, “আপনারা জানেন এমনিতেই নিশীথ প্রমাণিকের (Nisith Pramanick) সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর কাকা, ঠাকুরদাদা বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁরও ভারতের নাগরিকত্ব আছে। আবার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আছে।”
প্রসঙ্গত, গত ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের (Nisith Pramanick) কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় জেলার রাজনীতির অন্দরমহলে। সিতাইয়ের দিকে যাওয়ার সময় গোসানিমারি এলাকায় ওই হামলার ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় তৃণমূল ও BJP একে ওপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলে। এই ঘটনার পর সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ বর্মা বসুনিয়া বলেন, “আমরা ইচ্ছা করলে, যদি প্রতিরোধ তৈরি করতাম, তাহলে নিশীথ প্রামাণিক সিতাই থেকে ফিরে যেতে পারতেন না।” এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নিশীথ প্রামাণিকের গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ফের তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক মহল।
