স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার বিকালে ঘটনাটি ঘটে চুঁচুড়ার দেবীপুর ইটখোলা এলাকায়। বছর বারোর মৃতের নাম সঞ্জয় দত্ত। এদিন বিকালে একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলা করছিল সঞ্জয়। সেই সময় হঠাৎই নির্মীয়মাণ বাড়ির সানশেড ভেঙে নিচে পড়ে যায় সঞ্জয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। এলাকাবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। শিশুটিকে উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে (Chinsurah Imambara Hospital) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, নির্মীয়মাণ বাড়িটিতে কোনওরকম বাউন্ডারি দেওয়া ছিল না। আর সেখানেই প্রতিদিন খেলা করত এলাকার শিশুরা। এলাকার মানুষের দাবি করে বাড়ির মালিককে নিহত শিশুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যদিও ঘটনার পর থেকে বাড়ি মালিকের কোনও খোঁজ মেলেনি। চুঁচুড়া থানার পুলিশ সোমবার মৃতদেহ ময়নতদন্তে পাঠায়। তার মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক ছোটবেলাতেই সঞ্জয় বাবা-মাকে হারিয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই ঠাকুমার কাছেই মানুষ সঞ্জয়।
কিশোরের ঠাকুমা দুর্গা দত্ত বলেন, “আমার একটাই নাতি। ওর মা-মারা যাওয়ার পর থেকে আমি বড় করেছি। খেলতে খেলতে পরে গিয়ে শেষ হয়ে গেল।” তবে বাড়ির মালিকের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “বাড়ির লোকের এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমাদের সঙ্গে এসে দেখা করেনি। যে বাচ্চাটি মারা গিয়েছে তার পরিবারের লোকের সঙ্গে দেখা করেনি, কথা বলেনি। অপূরণীয় ক্ষতির দামটা কে দেবে ? বাচ্চাটা তো চলে গেল।” বাড়ির মালিককে খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক এবং মৃত নাবালকের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা হোক, এমনটাই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকী বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা পুলিশের কাছে দাবি জানাবেন বলেও জানানো হয়েছে। বাড়ির মালিকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
