লকডাউনের আগে এক বার পুলিশ এবং বন দপ্তর থেকে হাটটি তুলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু লাভ হয়নি। কয়েকদিন সব কিছু চুপচাপ থাকার পরে ফের ব্যবসায়ী ও সুরাপ্রেমীরা আসর জমিয়ে বসেছেন হাটে। বৈকুণ্ঠপুর বন দপ্তরের এডিএফও জয়ন্ত মণ্ডলের বলেন, ‘মদ বিক্রেতাদের লাইসেন্স আছে কি না সেটা আবগারি আর পুলিশ দেখবে। আমাদের উদ্বেগ, বুনো হাতির হামলা নিয়ে। হাটের সময়ে বুনো হাতি ঢুকে পড়লে সামাল দেওয়াটা যে মুশকিল, সেটা কাউকেই বোঝাতে পারছি না।’ শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘অভিযোগ পেলে আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জঙ্গল ও চা বাগানের কোল ঘেঁষে গ্রামের সাপ্তাহিক হাটে চাল, ডাল, তেল, নুন, তরিতরকারি মেলে। তবে হাটে আসা বেশিরভাগ ক্রেতাদের আসল আকর্ষণ সুরা। এদিন কাঠামবাড়ি থেকে ফুলকপি, বেগুন, মুলো বিক্রি করতে এসেছিলেন জহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই হাটে সব্জি খুব একটা বিক্রি হয় না। চা বাগানের শ্রমিকেরা সাপ্তাহিক কেনাকাটা করতে আসেন। বাকি যে সমস্ত খাবার বিক্রি হয় সেটা নিয়ে আমাদের কী বলার আছে?’ কাঠামবাড়ি থেকে ফি রবিবার এই হাটে হাঁড়িয়া বিক্রি করতে আসেন পিটার মিনজ। তাঁর কথায়, ‘এই এলাকার সমস্ত হাটে হাঁড়িয়া বিক্রি হয়। লোকে খায় বলেই তো প্রতি হাটে হাঁড়িয়া নিয়ে আসি।’ বিক্রেতাদের লাইসেন্স নিয়ে কোনও মাথাব্যাথা নেই বেলাকোবার জয়ন্ত বর্মন কিংবা সালুগাড়ার ভূপেন রাইয়ের। তাঁদের বক্তব্য, ‘হাটে বিক্রি হচ্ছে। আমরা কিনে খাচ্ছি। একসঙ্গে হাটে মদ ও মাংস কিনতে পারছি। তাই আসছি। বিক্রি না-হলে আসব না।’ সরস্বতীপুর চা বাগানের শ্রমিক পেত্রানুস লাকড়া বলেছেন, ‘কবে থেকে এই হাট চালু হয়েছে সেটা আমিও জানি না। আমার বাবাও এই হাটে কেনাকাটা করেছেন। এখন বাইরের লোক বেশি ঢুকে যাচ্ছে।’
বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সরস্বতীপুরের কাছাকাছি হাট অন্তত পনেরো থেকে বিশ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটিতে হাতির আনাগোনা রয়েছে বলে জঙ্গলের একপাশে হাট চালু করা হয়। আগে সকাল দশটা থেকে হাট বসত। বিকেল নামার আগেই সবাই বাড়িতে ফিরত। এখন হাট বসতে বসতেই বেলা বারোটা বেজে যায়। চলে সন্ধ্যা পাঁচটা পর্যন্ত। হাতি হাটের কাছাকাছি চলে এলে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই মিলে হাতি তাড়াতে নেমে পড়েন।
