বাঙালির মাছ ভাজা নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র বিতর্ক শুরু হতেই তা নিয়ে ক্ষমাও চান তিনি। মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কোন্নগরে অভিনব প্রতিবাদ এসএফআইয়ের।

হাইলাইটস
- বাঙালির মাছ ভাজা নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে অভিনেতা পরেশ রাওয়াল
- অভিনেতার বিরুদ্ধে থানায় FIR দায়ের করেছেন মহম্মদ সেলিম
- রবিবার কোন্নগরে মাছ ভেজে অভিনব প্রতিবাদ করল SFI
কী বলেছিলেন পরেশ রাওয়াল?
গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে (Gujarat Election 2022) BJP-র হয়ে প্রচারে গিয়ে ‘মাছে ভাতে বাঙালি’-কে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন পরেশ রাওয়াল। রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, “গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়লে তা আবারও সস্তা হয়ে যাবে। যদি মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়, তা কমে যাবে। মানুষ চাকরিও পাবেন। মুদ্রাস্ফীতির সমস্যা গুজরাটের মানুষ সহ্য করতে পারে। কিন্তু, যদি দিল্লির মতো রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিরা (Bangladeshi) আপনার বাড়ির পাশে থাকতে শুরু করে, তাহলে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে কী হবে? বাঙালিদের জন্য মাছ রান্না করবেন?” তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বামেদের পাশাপাশি তৃণমূলকেও এর বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কোন্নগরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হয়ে এসএফআই (SFI) হুগলি জেলা কমিটি সভাপতি অর্ণব দাস বলেন, “পরেশ রাওয়াল যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তা কার্যত বাঙালি বিদ্বেষী এবং বাঙালি জাতিসত্তাকে আঘাত করেছে। তার বিরুদ্ধেই আমরা মাছ ভেজে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছি। আসলে আরএসএস, বিজেপি গোটা দেশ জুড়ে বিদ্বেষের রাজনীতি ছড়িয়ে দিতে চায় তারই প্রতিফলন বিজেপির পরেশ রাওয়ালের এই বক্তব্যে।”
SFI-এর কর্মসূচি ঘিরে শুরু রাজনৈতিক তরজা
এ প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরের বিজেপির সাংগঠনিক সভাপতি মোহন আদক বলেন, “বামফ্রন্ট ৩৪ বছরে অনেক নাটক দেখিয়েছে। আবার নতুন করে নাটক দেখাতে রাস্তায় নেমেছে। মানুষ এই নাটক গ্রহণ করবে না। অভিনেতা সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়েছেন এবং সোশাল সাইডে আপলোডও করেছেন।” অন্যদিকে কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ থেকে মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। সিপিএম পশ্চিমবাংলায় শূন্যে নেমে গিয়েছে। গতবারে ইলেকশনের সময় সব ভোট বিজেপিকে দিয়ে দিয়েছে। যতই মাছ ভেজে প্রতিবাদ করুক কিছু হবে না। সিপিএমের কেন্দ্র কমিটিতে কতজন বাঙালি আছে জিজ্ঞেস করুন তো। সিপিএম আর বিজেপি যে এক তা কয়েকদিন আগে পূর্ব মেদিনীপুরে দেখেছেন মানুষ। তৃণমূলকে হারানোর জন্য সিপিআইএম, কংগ্রেস,বিজেপি এক হয়ে ভোটে লড়েছে। সারদা মামলায় সব তৃণমূলের লোককে ধরেছে। অথচ সারদা সৃষ্টি হয়েছিল সিপিএমের আমলে। কোনও সিপিএম নেতাকে ডাকেনি।”
আশপাশের শহরের খবর
Eisamay News App: আশপাশের তাজা ও গুরুত্বপূর্ণ খবর বাংলায় পড়তে ডাউনলোড করুন এই সময় অ্যাপ
