Jatra Pala : করোনা কাটিয়ে মিলছে বায়না, মুখে হাসি মুর্শিদাবাদের যাত্রা শিল্পীদের – murshidabad theatre artists getting relief for new booking coming after corona period


মিলছে বায়না। মুখে হাসি ফুটছে যাত্রা শিল্পীদের। গত দু’বছর লকডাউনে চরম আর্থিক দুরাবস্থায় কেটেছে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) যাত্রা শিল্পীদের। এবার বায়নার জোয়ার আশায় খুশি শিল্পীরা। শীতের শুরুতে নবান্ন উৎসবের (Nabanna Utsav)কারণে গ্রামে গ্রামে বসছে যাত্রা পালার আসর। ডাক পড়ছে শিল্পীদের (Theatre artist)। খরা কাটিয়ে লক্ষী লাভের আশায় শিল্পীরা। পাশাপাশি, অনেক শিল্পীরাই এখনও রাজ্য সরকারের ” শিল্পী ভাতা” প্রকল্পের অধীনস্থ হতে পারেননি। তাঁদের যাতে তালিকাভুক্ত করা হয় রাজ্য সরকারের কাছে এরকমটাই আবেদন রাখছেন অনেকেই। নবান্ন উৎসব উপলক্ষ্যে শীতের রাতে গ্রামে গ্রামে বসছে যাত্রাপালা গানের আসর। মুর্শিদাবাদ জেলায় সামনের কয়েক মাস শখের যাত্রার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি এলাকা যাত্রা গানের প্রতিযোগিতায় জমজমাট হয়ে থাকবে।

Malda News : ঝোঁক নেই বর্তমান প্রজন্মের, ধুঁকছে মালদার আলকাপ গান
পেশাদারি যাত্রা শিল্পীদের বক্তব্য, পরপর দু’বছর বায়না না মেলায় পেশায় টান পড়েছিল। সংসারে অভাব জাঁকিয়ে বসেছিল। এবার কার্যত যাত্রা গানের জোয়ার এসেছে। একসময় গ্রামে গ্রামে শখের যাত্রার বহুল প্রচলন ছিল। মাঝে বেশ কিছুদিন যাত্রাপালায় ভাটা পড়েছিল। বহু এলাকা থেকেই শখের যাত্রার রেওয়াজ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার গ্রামে গ্রামে যাত্রাপালার চল শুরু হয়েছে। তবে পরপর দু’বছর কোভিড গেরোয় ডাক পাননি পেশাদারি যাত্রা শিল্পীরা। এবার শীতের শুরু থেকেই দেদার বায়না মেলায় শিল্পীদের চোখে মুখে খুশির ঝলক দেখা দিতে শুরু করেছে।

Uttar Dinajpur News : কোটি টাকার ফেলোশিপ নিয়ে বিদেশে গবেষণার সুযোগ, করণদিঘির গর্ব শুভজিৎ
সোমবার রাতে বড়ঞা থানার পারশালিকা গ্রামে হয়ে গেল যাত্রা গান। সহ শিল্পী রুমা সরকার বললেন, অন্য পেশায় সুযোগ না মেলায় দু’বছর আয়ার কাজ করে বহু কষ্টে সংসার চালিয়েছি। এবার ভালো টাকার মুখ দেখতে পারব আশা করছি। যাত্রাপালায় ভাড়া করা অভিনেত্রীর পাশাপাশি রূপসজ্জা, যন্ত্র সঙ্গীতের কাজের সঙ্গেও বহুজন জড়িত থাকেন। সহযোগী শিল্পীরা একটি সংস্থার কাছ থেকেই ডাক পান। পাঁচথুপীর এমন এক সাজঘরের সংস্থার মালিক গোলকপতি চক্রবর্তী বলেন, “দু’বছর কাউকে কাজ দিতে পারিনি। অগ্রীম হিসাবে অনেককে আর্থিক সাহায্য করেছি। কিন্তু সেই সাহায্য সংসার চালানোর পক্ষে যথেষ্ট ছিল না। এবার পুষিয়ে দিতে পারব মনে করছি।” যাত্রা শিল্পী টুম্পা বিশ্বাস বলেন, ” লকডাউনের কারণে আমাদের খুবই দুরবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছিল। এখন আবার সব শুরু হওয়ায় আমরা এখন অনেকটাই খুশি।”

Kolkata City : কলকাতার পাশেই রয়েছে দ্বিতীয় ‘কলিকাতা’! জানেন সেই শহরের গল্প?
গ্রামে যাঁরা শখ মেটাতে যাত্রাপালা করেন তাঁরা নিজের পকেট থেকেই খরচা মেটান। অনেকে আবার গ্রামে চাঁদা তুলেও গ্রামবাসীদের মনোরঞ্জনের আয়োজন করেন। পারশালিকা যুব সমতি নাট্য সংস্থার অন্যতম সদস্য তুষার ঘোষ বলেন, “বাংলার লোক সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ যাত্রা গান। আমরা চেষ্টা করছি এই সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার। পরের প্রজন্মরা এগিয়ে আসায় আমার বিশ্বাস গ্রাম বাংলা থেকে শখের যাত্রা হারিয়ে যাবে না।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *