
গ্যারেজে গাড়ির আলকাতরা, কলিঝুলিতে আজও হারায়নি শৈশবের স্বপ্ন। তাই হাজারও ব্যস্ততা আর কাজের মধ্যেও খালি গলাতেই সেই সুরসাধনায় ব্রতী ওয়াশিম। ছোট বেলা থেকেই গানের প্রতি ভালোবাসা। ইচ্ছে ছিল একদিন বড় গায়ক হওয়ার৷ কিন্তু বাড়ির আর্থিক অনটন সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়৷ স্কুল জীবন শেষ হওয়ার আগেই থেকে সংসার চালানোর দায়িত্ব ঘাড়ে এসে পড়ে ৷ জীবিকার সন্ধানে দৌড়তে গিয়ে লাটে ওঠে গানের স্বপ্ন।
দেড় দশক আগের কথা, বর্ধমান থেকে জীবিকার সন্ধানে বাঁকুড়ার (Bankura News) কোতলপুরে আসেন ওয়াশিম৷ সেখানে মোটর সাইকেল গ্যারেজে কাজের হাতেখড়ি৷ গ্যারেজের লোকলক্কর নিয়ে কাজের চাপ কিংবা নিদারুণ আর্থিক অনটন অবশ্য ওয়াসিমের কন্ঠ বন্ধ করতে পারেনি৷ কাজ করতেই করতেই গুনগুনিয়ে গান গেয়ে ওঠেন ৷ সাময়িকভাবে জীবনের অপ্রাপ্তিগুলো হারিয়ে যায় গানের ভিড়ে৷
ওয়াশিম আক্ষেপ করে বলেন, ”একেকসময় খুবই দুঃখ লাগে ৷ যদি ঘরের অবস্থা ভালো থাকত, তাহলে হয়তো সঙ্গীত জগতের প্রথাগত শিক্ষা নিয়ে গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতাম৷ আমার গান শুনে বন্ধুরাও আফশোস করে৷ তবে ওই স্বপ্নটা এখনও মরে যাইনি৷ আমাকে গভীর ঘুমেও জাগিয়ে রাখে৷ অরিজিৎ সিংয়ের গান শুনে গায়ে কাঁটা দেয় শিউড়ে ওঠে৷ উনিই আমার গুরু৷”
গুরুর মতোই তাঁর জীবনেও একদিন আসবে সেই মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। ২০০৫ সালে সোনি এন্টারটেইনমেন্ট টিভি চ্যানেলের সঙ্গীত প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠান ‘ফেম গুরুকুল’ যেভাবে অরিজিৎ সিংকে গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে, তেমনই কোনও একটা সুযোগ এসে দাঁড়াবে বাঁকুড়ার অরিজিৎ সিং ওয়াসিম খান ওরফে গুড্ডুর জীবনে। সেই আশাতেই সুরসাধনায় হাজার কষ্টেও কোনও ফাঁকি পড়ে না।
সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তাই দিনের শেষে দু’তিন ঘণ্টা গান করেন গুড্ডু৷ ফেসবুকে নিজের ওয়ালে সেই গান পোস্ট করেন৷ লাইক, কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়৷ তবু আর্থিক অনটনই যেন বারে বারে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ তবু এই গানের মধ্যেই যেন তিনি খুঁজে পান জীবনের ছন্দ। এযুগের একলব্য, তাঁর না দেখা গুরু অরিজিৎ সিং এর গানকে আশ্রয় করেই দিনযাপন ওয়াসিমের।
