Pradhan Mantri Awas Yojana : আবাস যোজনা: সার্ভার থেকে উধাও প্রায় ২০ হাজার নাম! – pradhan mantri awas yojana bardhaman 20000 applicants names have disappeared from the server
এই সময়, বর্ধমান, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তথ্য যাচাইয়ে বিস্তর অসঙ্গতি সামনে আসছে পূর্ব বর্ধমানে। তার উপর ২০১৭-১৮ সালে আবেদনকারী ১৯,৬৪০ জনের তথ্য গলসি-২ ব্লকের সার্ভার থেকে উবে গিয়েছে বেমালুম! গাফিলতির কারণ খুঁজতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন বিডিও থেকে পঞ্চায়েতের কর্মীরা। এ বার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নবান্ন থেকে জেলায় এলেন পঞ্চায়েত দপ্তরের বিশেষ সচিব সৌম্যজিৎ দাস।

বৃহস্পতিবার আগাম না-জানিয়েই আবাস যোজনায় আবেদনকারীদের তালিকা হাতে মেমারি-১ ব্লকে হাজির হন পূর্ব বর্ধমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই আধিকারিক। বিডিও আলি মহম্মদ ওয়ালিউল্লাহ ও অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) কাজল রায়কে নিয়ে তিনি গন্তার-১ পঞ্চায়েতের মণ্ডলজোনা গ্রামে পরিদর্শনে যান। সূত্রের খবর, ওই গ্রামে চার আবেদনকারীর বাড়ি ঘুরে দেখে দু’জনকে অযোগ্য বলে বিবেচিত করেন তিনি। সূত্রের খবর, এ দিন জেলায় এসে সৌম্যজিৎ বলেন, ‘শুধু প্রাইমারি ফিল্ড সার্ভে রিপোর্টে থাকা তথ্যের উপরেই নির্ভর করে যেন উপভোক্তার চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা না হয়। ফিল্টারের পরে ফিল্টার করেই যেন তৈরি হয় চূড়ান্ত তালিকা।’ কেউ তালিকায় জোর করে নাম ঢোকানোর বিষয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ওই আধিকারিক।

 

Pradhan Mantri Awas Yojana : আসছে খুনের হুমকি ? আতঙ্ক সমীক্ষার কাজে
এ দিকে, পূর্বস্থলী-২ ব্লকের পর এ বার গলসি-২ ব্লকেও সার্ভার থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আবেদনকারীদের নাম উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ২০১৭-১৮ সালে আবেদনকারী ১৯,৬৪০ জনের তথ্য ব্লকের সার্ভারে নেই। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও রাজ্যের পাশাপাশি ইতিমধ্যে দিল্লির সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও জানানো হয়েছে। গলসি-২ ব্লকের বিডিও সঞ্জীব সেন বলেন, ‘নিয়ম মেনে আবেদনকারীদের নামের তালিকা কেন্দ্রের পোর্টালে আপলোড করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও ভাবে সেই ডেটা হারিয়ে যায়। ২০২০-র নভেম্বরে বিষয়টি সামনে এলে জেলা ও রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি দিল্লিতে এমওআরডির কাছে জানানো হয়। জবাবে দিল্লি থেকে জানানো হয়, তাঁরা সেই পুরোনো ডেটা উদ্ধার করতে পারছেন না। এর জেরে সেই কাজ আপাতত বন্ধ।’

Pradhan Mantri Awas Yojana : আবাস যোজনায় ১৫ দফা শর্ত
খণ্ডঘোষ ব্লকেও বিস্তর অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। এক ব্লক আধিকারিক বলেন, ‘এই ব্লকে ১০ হাজারটি বাড়ির অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে আট হাজারের সমীক্ষার কাজ শেষ। যার মধ্যে প্রায় ১,৯০০ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে। তার মধ্যে আবার প্রায় ৫০০ জন আবেনদকারীর কোনও অস্তিত্বই মেলেনি।’ খণ্ডঘোষের বিডিও সত্যজিৎ কুমার বলেন, ‘বেশ কয়েকজন আবেদনকারী মারা গিয়েছেন। তাঁদের যদি কোনও উত্তরাধিকারী থাকেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টি দেখা হতে পারে। অন্যথায় সেগুলিও বাতিল করা হবে।’ আউশগ্রাম ১-এ বৃহস্পতিবার জয়েন্ট বিডিও বিশ্বজিৎ দাসকে সঙ্গে নিয়ে বেরেন্ডা গ্রামের ১১ জন আবেদনকারীর বাড়ি বাড়ি ঘুরে দেখেন বিডিও অরিন্দম মুখোপাধ্যায়।

Hari Krishna Dwivedi : গ্রামীণ আবাস যোজনায় তথ্য যাচাই সমীক্ষায় বাধা এলে কড়া ব্যবস্থা: মুখ্যসচিব
অন্য দিকে, পুরুলিয়ার ঝালদা-১ ব্লকের ইলু জারগো গ্রাম পঞ্চায়েতে গ্রাম প্রধানেরই নাম রয়েছে আবাস যোজনার আবেদনকারীদের তালিকায়। যদিও বর্তমানে তাঁর আর্থিক অবস্থা ভালো হওয়ায় বাড়ি না-নেওয়ার কথা বিডিওকে জানিয়েছেন প্রধান প্রকাশ মাহাতো। তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় বাঁকুড়ার রানিবাঁধের বারিকুল পঞ্চায়েত অফিসের বিক্ষোভ দেখান আবেনদনকারীরা। যদিও পঞ্চায়েত প্রধান ধনঞ্জয় মাহাতোর আশ্বাস, ‘আবার সার্ভে হবে। কেউ বাদ পড়বেন না। সবাই বাড়ি পাবেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *