স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল আনুমানিক ছ’টা নাগাদ অপরিচিত একটি ছেলেকে ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন এলাকাবাসী৷ তারপর সকাল আটটা নাগাদ দেবনগর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা অরুণ জানার বাড়িতে আচমকা ঢুকে পড়ে বলে দাবি৷ আরও দাবি, সেই সময় অরুণ জানার স্ত্রী বাইরে গাছে দেওয়ার জন্য সার প্রস্তুত করছিলেন৷ সেসময় তিনি এক যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখেন৷ এরপর হঠাৎ করে অরুণবাবুর স্ত্রী কল্পনা জানা কাজ সেরে ঘরে আসতেই একটি অপরিচিত যুবক সেখানে দেখে বলে দাবি৷ সঙ্গে সঙ্গে কল্পনাদেবী চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন৷
কল্পনাদেবী চোর চোর বলে চিৎকার করতে থাকলে, ওই যুবক সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে দাবি৷ তখনই ওই যুবকের পিছু নেন কল্পনা দেবী৷ বেশ খানিকটা দৌড়ে গিয়ে একটি সাইকেলে চরে পালানোর চেষ্টাও করেও, অবশেষে ওই যুবককে ধরে ফেলেন প্রতিবেশীরা৷ তারপরে ওই যুবককে চোর সন্দেহে শিবনগর আবাদ পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে এলাকার মানুষজন গণপিটুনি দেন বলে অভিযোগ৷
কল্পনা জানা বলেন, “আমি বাইর কাজ করছিলাম৷ ঘরে যেতেই দেখি অচেনা একটি ছেলে ঘরের ভিতরে রয়েছে৷ আমি ওকে দেখেই চোর চোর বলে চিৎকার করতেই ছেলেট পালাবার চেষ্টা করে৷ কিন্তু স্থানীয় লোকজন ধরে ফেলে৷ পুলিশ এলে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷” কল্পনাদেবীর স্বামী বলেন, “আমি বাড়িতে ছিলাম না৷ আমার স্ত্রী ঘরের বাইরে কাজ করা কালীনই একটি ছেলেকে ঘোরাফেরা করতে দেখে৷ পরে ঘরে যেতেই দেখে ছেলেটা আমাদের ঘরে ঢুকেছে৷ আমার স্ত্রী চোর চোর বলে চিৎকার করতেই পালিয়ে যায়৷ আমার স্ত্রীও ওর পিছনে ধাওয়া করে৷”
তিনি আরও বলেন, “ছেলেটি ঢালাই রাস্তা থেকে একটি সাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে৷ কিন্তু স্থানীয়রা ধরে ফেলেন৷ ওই সাইকেলটি হয়তো পালাবার জন্যই সেখানে রেখেছিল ছেলেটি৷” স্থানীয় এক মহিলা পলি নন্দ বলেন, “ছেলেটি রাস্তার একটি কাঠের ওপর বসেছিল দু’ঘণ্টা ধরে৷ এরপর একজনের বাড়িতে উঁকিঝুঁকি দেয়৷ তারপর একজনের বাড়িতে ঢুকে পড়ে৷ তখনই চোর চোর করে চিৎকার চেঁচামিচি ছেলেটি পালাতে গেলে এলাকার লোকজন ধরে ফেলে৷”
