পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার (Gangasagar Coastal Police Station) নারায়ণী আবাদের বাসিন্দা বছর তেইশের পেশায় নির্মাণ শ্রমিক গোপাল দাস গত ৭ তারিখ বাড়ি ফেরার জন্য সেকেন্দ্রাবাদ থেকে ট্রেনে চাপেন। পর দিন রাতে হাওড়া স্টেশনে নামেন। কিন্তু কাকদ্বীপে ফেরার কোনও গাড়ি না পাওয়ায় তিনি ধর্মতলায় সরকারি বাস স্ট্যান্ডে রাতে থেকে যান। সেই সময় অপিরিচিত এক ব্যক্তি গোপালকে চা পান করতে দেন। চা পানের পরই গোপাল অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি।
গোপালের দাবি, হুঁশ ফিরতেই তিনি দেখেন, তাঁর কাছে থাকা ব্যাগে নগদ ৩০ হাজার টাকা, দু’টি মোবাইল, পোশাক সহ সবকিছু নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। নেশার ঘোরে ভুল করে বিহারের একটি গাড়িতে উঠে পড়েন গোপাল। আর এদিকে গোপালের বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও, তিনি নির্ধারিত সময়ে না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। যদিও বিহারের কিছু বাসিন্দার সহায়তায় রবিবার বাড়ি ফিরেছেন গোপাল। তবে শারীরিকভাবে তিনি অসুস্থ।
গোপাল দাস বলেন, “আমি বাড়ি ফিরছি না দেখে, পরিবারের লোকজন দুশ্চিন্তায় ছিল৷ আমি নিজেও বাড়ি ফিরতে পারব কিনা, তা নিয়ে সংশয় ছিল৷” গোপালের মামা বিষ্ণুপদ দিন্ডা বলেন, “ধর্মতলায় এক ব্যক্তি ওকে চা খেতে দেয়৷ সে নিজেও চা খেয়েছে৷ কিছুক্ষণ পরই গোপালের ঘুম ঘুম পেলে, সে ঘুমিয়েও পড়ে৷ এরপর যখন হুঁশ আসে, উঠে দেখে ওর কাছে থাকা টাকা মোবাইল সবই উধাও৷” বিষ্ণুপদ দিন্ডার দাবি, যে ওকে চা খেতে দিয়েছিল সেই কিছু মিশিয়ে দিয়েছিল, যাতে ও অচৈতন্য হয়ে পড়ে এবং সে সব নিয়ে চম্পট দিতে পারে৷ এমনকি ওর একটা ঘুমন্ত ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে৷ সেটা দেখে তাঁরা সকলে ঘাবড়ে যান৷ গোপাল বেঁচে আছি কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়৷ তার ওপর ও ফোনও ধরছে না৷ বাড়ি থেকে কয়েকজন মিলে ধর্মতলায় যায় গোপালের খোঁজ করতে৷ কিন্তু মেলেনি খোঁজ৷
আত্মীয় বাসন্তী দিন্ডা বলেন, “ওকে খুঁজে না পেয়ে আমরা সকলেই ভেঙে পড়েছিলাম৷ বাড়িতে কান্নার রোল ছিল৷ আমরা থানার দ্বারস্থ হই৷ ও ফিরে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সকলে৷”
