Pradhan Mantri Awas Yojana : নিজে আবাস যোজনায় চোখ রাখবে কেন্দ্র – pradhan mantri awas yojana central will observe all activities


তাপস প্রামাণিক
PM Awas Yojana Gramin : প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় গরিবদের জন্য বাড়ি তৈরির কাজ নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য পৃথক নজরদারি কমিটি গঠন করতে বলল কেন্দ্র। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কোঅর্ডিনেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি’ বা দিশা। কেন্দ্রীয় সরকার মনোনীত কোনও সাংসদের নেতৃত্বে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এই নজরদারি কমিটি গঠন করা হবে। তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর। তৃণমূলের সাফ কথা, এই কমিটিকে সামনে রেখে কেন্দ্র আসলে রাজ্যের উপর খবরদারি করবে এবং এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার প্রয়াস। বিজেপির অবশ্য দাবি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে দুর্নীতি রুখতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকা তৈরি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্নীতির অভিযোগও আসছে। তার মধ্যেই কেন্দ্রের এই নয়া নির্দেশিকা। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাজ যাতে ঠিক মতো হয়, সেই জন্য রাজ্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। আবার একটা কমিটি গঠনের মানে কী? জেলা নজরদারি কমিটির মাথায় কে বসবেন, সেটা কখনও কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করে দিতে পারে না। এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা।’

Pradhan Mantri Awas Yojana : ‘আমি বাড়ি পাওয়ার যোগ্য নই…’, BDO-কে চিঠি লিখে নাম প্রত্যাহারের আবেদন হাবড়ার কবিরুলের
বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বক্তব্য, ‘তৃণমূল আসলে চায় না, সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি বন্ধ হোক। আবাস যোজনা-সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পে নজরদারির জন্য দেশের সব রাজ্যের প্রতিটি জেলায় দিশা কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। তার মাথায় থাকবেন সাংসদরা। বেশির ভাগ রাজ্য সরকার এটা মেনে নিয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ আপত্তি করছে।’ কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা নজরদারি কমিটিতে এক জন সাংসদ ছাড়াও বিভিন্ন জগৎ থেকে আরও চার জনকে কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করতে পারবে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। সেই সঙ্গে থাকবেন জেলাশাসক, জেলার সব বিধায়ক, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, পুরসভার মেয়ররা। আবাস যোজনায় কোনও দুর্নীতির অভিযোগ পেলে কমিটি সরেজমিনে তার তদন্ত করবে।

Awas Yojana Purba Bardhaman Helpline Number : আবাস যোজনা নিয়ে অভিযোগ? পূর্ব বর্ধমান জেলার বাসিন্দারা যোগাযোগ করুন এই নম্বরে
আবাস যোজনার কাজে স্বচ্ছতা আনতে আরও কয়েকটি পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র। সেগুলো হলো: অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ওমবুড্‌সম্যান নিয়োগ করা, গ্রিভ্যান্স সেল চালু করা, সিএজি অনুমোদিত সংস্থাকে দিয়ে আবাস যোজনার অডিট করানো এবং সোশ্যাল অডিট বাধ্যতামূলক করা। ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কমপক্ষে ১০ শতাংশ বাড়ি ঘুরে দেখতে হবে, জেলা আধিকারিকরা ন্যূনতম ২ শতাংশ বাড়ি পর্যবেক্ষণ করবেন। সেই মতো তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দেবেন। অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর বাড়ি তৈরির কাজ কতটা এগোল, তার অগ্রগতির রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময় অন্তর ‘আবাস অ্যাপে’ ছবি-সহ আপলোড করতে হবে। কতটা ইট, বালি, সিমেন্ট ব্যবহার হচ্ছে, তারও হিসেব মোবাইল অ্যাপে আপলোড করতে হবে। সে সব দেখে বাড়ির গুণগত মান যাচাই করবে অ্যাপ-ই। পারফরম্যান্স ইনডেক্স ড্যাশবোর্ডের সাহায্যেও প্রতিনিয়ত নজরদারি চালানো হবে। বলা হয়েছে, আগামী বছরের ৩১ অগস্টের মধ্যে অডিট সম্পূর্ণ করতে হবে। সিএজি-র অফিসাররাও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার খরচের পাই পয়সার হিসেব নেবেন। বছরে অন্তত একবার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সোশ্যাল অডিট করতেই হবে। রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের এক শীর্ষকর্তা বলছেন, ‘দুর্নীতি রুখতে যে সব পদক্ষেপ করা হচ্ছে, সে সব মানতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু কেন্দ্র তার পছন্দের লোককে নজরদারি কমিটির মাথায় বসালে তা নিয়ে বিরোধ অনিবার্য। তাতে কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। এটা না-হওয়াই বাঞ্ছনীয়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *