অবিলম্বে ট্রলি ফিশিং বন্ধ ও সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের ওপর বন দফতরের জোরজুলুমের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামল সুন্দরবনের হাজার হাজার প্রান্তিক মৎস্যজীবী। বুধবার দিনভর দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ মৎস্যবন্দরে (Kakdwip Fishing Port) কয়েজ হাজার মৎস্যজীবী মিছিলে সামিল হন। পরে দীর্ঘক্ষণ চলে সভা। এর পাশাপাশি চলছে গণস্বাক্ষর। গণস্বাক্ষর সম্বলিত দাবি পেশ করা হয় কাকদ্বীপ মহকুমাশাসককে। দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের উদ্যোগে সুন্দরবনে বসবাসকারী লক্ষাধিক প্রান্তিক সামুদ্রিক মৎস্যজীবীকে নিয়ে আগামী এক মাস ধরে এই আন্দোলন ও সভা চলবে বলে জানানো হয়েছে। সুন্দরবনের সব মৎস্যবন্দর, মৎস্যঘাট ও গ্রামে গ্রামে মিছিল ও গণস্বাক্ষর চলছে।
সংগঠনের সম্পাদক মিলন দাস জানান, ট্রলিফিশিংয়ের জন্য সমুদ্রে মাছের আকাল। অন্যদিক, সুন্দরবনের নদী- খাঁড়িতে মাছ ধরতে গিয়ে বন দফতরে জোরজুলুমের শিকার হতে হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। আজ লক্ষাধিক মৎস্যজীবী বিপন্ন। সেজন্য আমাদের এই আন্দোলন। তবে মৎস্যজীবীদের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, আগামী দিনে সরকারিভাবে কোনও আশ্বাস না পেলে আমরা সুন্দরবনের (Sundarban) বিভিন্ন নদীপথে অবরোধ শুরু করব। মৎস্যজীবী (Fisherman) আবু সালাম মণ্ডল বলেন, “ট্রলি ফিশিংয়ের ফলে মাছের চারা, ডিম নষ্ট হচ্ছে। আমাদের পক্ষে মাছ জোগাড় করা মুশকিল হয়ে পড়ছে। তাছাড়া, ছোট ছোট মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন জায়গায় কাগজপত্র নিয়ে বন কর্মীরা বিভ্রান্ত তৈরি করে। মাছ ধরার ব্যাপারে এত কড়াকড়ি করা হয়েছে, যেটা আমাদের কাজের অনেক অসুবিধা করে। সেই কারণেই আমরা আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হয়েছি।”
মৎস্যজীবীদের দাবি, ট্রলি ফিশিং করে এক শ্রেণির মৎস্যজীবী সমুদ্রের মাছ শেষ করে দিচ্ছে। এমন জাল ব্যবহার করা হচ্ছে, সদ্য ডিম ফোটা মাছও আটকে পড়ছে। বেশিরভাগ ট্রলারে বেআইনিভাবে ছাঁদি জাল ব্যবহার করা হচ্ছে, এই সমস্ত ট্রলারের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেওয়ার ব্যাপারে আওয়াজ তুলেছেন মৎস্যজীবীরা। ট্রলিং মালিকরা ব্যবসায় ফুলেফেঁপে উঠছেন, উল্টোদিকে ছোট ছোট মৎস্যজীবীদের মার খেতে হচ্ছে বলেই দাবি তাঁদের। জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন চলবে বলে জানান হয়েছে।
