জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বালাপাড়ার বাসিন্দা পেশায় ব্যবসায়ী নিতুল রায়। গতকাল স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির বাইরে গিয়েছিল কাজে। বাড়িতে ছিল তাঁর দুই কন্যা সন্তান। বড় মেয়ে সন্ধ্যায় টিউশন পড়তে যায়। বাড়িতে ছিল ছোট মেয়ে কোয়েল রায়। অভিযোগ সে একা বাড়িতে থাকাকালীন এলাকার চার নাবালক যুবক বাড়িতে এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মেয়ের উপর শারীরিক অত্যাচার করে হত্যা করে। এরপর ওই নাবালিকা বড় বোনকে মোবাইলে খবর দেওয়া হয় দুর্ঘটনার ব্যাপারে। সেই মতো বড়বোন তার বাবা নিতুল রায়কে ফোন করে বিষয়টি জানায়। বাবা মিতুল ও মা মানুনি রায় বাড়ি ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজা ভাঙা রয়েছে। মেয়ে মেঝেতে পড়ে রয়েছে। এর পরেই এলাকার বাসিন্দারা জিজ্ঞেসাবাদ করে এলাকার চার যুবকের কথা জানতে পারে৷
মেয়ের বাবা বলেন, “ওই চারজন আমার মেয়েকে অত্যাচার করে মেরে ফেলেছে। এর আগেও ওই ছেলেগুলোর মধ্যে দুটো ছেলেকে আমাদের বাড়িতে জোর করে ঢোকার কারণে মারধর করা হয়েছিল। গ্রাম প্রধানকে ডেকে বিষয়টার মীমাংসা করা হয়। এরপর কাল ওই চারটে ছেলে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে ফের এসেছিল। ওরাই আমার মেয়েকে মেরে ফেলে দিয়েছে। আমরা দোষীদের কড়া শাস্তি চাই।”
অভিযোগ, এই চার যুবক এর আগেও নাবালিকাকে একাধিকবার বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করত। পরিবারের আরও দাবি, তাঁদের মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। সেটা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। আজ সকালে এলাকার উত্তেজিত জনতা দুই অভিযুক্তের বাড়ি ব্যাপক ভাঙচুর করে। পাশাপাশি চার অভিযুক্তর কঠোর শাস্তির দাবি করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। ঘটনাস্থলে আসে কোতোয়ালি থানায় পুলিশ (Kotwali Police Station)। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি এই ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে৷ এখন এলাকায় পরিস্তিতি উত্তপ্ত রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকার চার যুবকের নামে কোতোয়ালি থানায় (Kotwali Police Station) লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। নাবালিকাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের৷ এই ঘটনায় এক জনকে আটক করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
