বিজেপি (BJP)-শাসিত রাজ্যগুলির ‘বুলডোজ়ার নীতি’ নিয়ে দেশজুড়ে বারবার বিতর্ক হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে ‘বুলডোজ়ার দাওয়াই’ দেওয়া শুরু করে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। পরে অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি এক পথে হাঁটতে শুরু করে। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি গণতন্ত্রের ধার ধারছে না। অন্যায় ভাবে বুলডোজ়ার চালিয়ে ভাঙা হচ্ছে যে কোনও নির্মাণ। প্রতিবাদ-আন্দোলন দমনেও উত্তরপ্রদেশে বুলডোজ়ার নামাচ্ছে যোগী সরকার। তাদের ‘বুলডোজ়ার নীতি’র জল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ বার সেই বিতর্কিত বিষয় বাংলায় ঢোকানোর কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, অচিরেই বাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার হবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রের মতো রাজ্যেও বিজেপি সরকার থাকবে।
‘বন্দে ভারতে’ পাথর ছোড়ার বিরুদ্ধে অবশ্য সরব সব রাজনৈতিক দলই। বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলও এর নিন্দা করেছে। জোড়াফুল শিবিরের সন্দেহ, বাংলাকে বদনাম করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে বন্দে ভারতে পাথর ছোড়ার ঘটনার চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে। বঙ্গ-বিজেপির অধিকাংশ নেতা রাজ্য প্রশাসনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। কিন্তু শুভেন্দুর সুরে সুর মিলিয়ে তাঁরা কেউ এর প্রেক্ষিতে বুলডোজ়ার নামানোর হুঁশিয়ারি দেননি। রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথা, ‘যোগী সরকারের বুলডোজ়ার নীতি নিয়ে বারবার সমালোচনা হয়েছে। বস্তুত, বুলডোজ়ার শব্দটি এখন বিতর্কিত। সেই শব্দের উল্লেখ করে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার কোনও অর্থ নেই। যোগী সরকারের উন্নয়নমূলক নীতি, সুশাসনের কথা অবশ্যই প্রচার করা যায়। কিন্তু বুলডোজ়ার নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করাই ভালো।’
শুভেন্দু অবশ্য এ দিন ‘বুলডোজ়ার হুঁশিয়ারি’র পাশাপাশি পাথর ছোড়ার ঘটনায় এনআইএ তদন্তও দাবি করেছেন। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে পাথর ছোড়ার ঘটনায় বাংলাকে বদনাম করার পরিকল্পিত চিত্রনাট্য। তৃণমূল কোনও ট্রেনেই পাথর ছোড়াকে সমর্থন করে না। যোগী রাজ্যে একাধিক বার আক্রান্ত হয়েছে বন্দে ভারত। সেখানে সরকারের বিরুদ্ধে বুলডোজ়ার নামানোর দাবি জানান শুভেন্দু। সঙ্গে এনআইএ তদন্তের দাবিও তুলুন।’ এ দিন মালদার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সভা থেকে ‘দিদির দূত’কে ‘ভূত’ বলে ফের কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু। জবাবে চন্দ্রিমা বলেন, ‘দিদির ভূত ওঁকে (শুভেন্দু) তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তাই এ সব অদ্ভূত-কিম্ভুত কথা বলছেন!’
