স্বাভাবিকভাবে জানতে ইচ্ছে করছে লিলি ও রোমিও আসলে কে? না না এরা কোনও মানুষ নয়, এনডিআরএফ কলকাতার সেকেন্ড ব্যাটেলিয়ানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর লিলি ও রোমিও। NDRF-র তিনটি ব্যাটিলিয়ানের মোট ৭৫ জন কর্মীকে এবারের গঙ্গাসাগর মেলাতে মোতায়েন করা হয়েছে। সাগরমেলা প্রাঙ্গন, কচুবেড়িয়া ও চেমাগুড়ি পয়েন্টে এরা মোতায়েন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে রোমিও ও লিলি। এছাড়াও যে কোনও ধরনের বিপদ কাটাতে রিমোর্ট পরিচালিত লাইফবয়েওর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবারের গঙ্গাসাগর মেলাতে।
শনিবার সকাল থেকেই গঙ্গাসাগের মকরসংক্রান্তি পুণ্যস্নান শুরু হবে। সেদিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শাহী স্নানের পূর্ণযোগ রয়েছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে পুণ্যার্থীরা দলে দলে সমুদ্রে স্নান সেরে পুজো দেবেন কপিলমুনির মন্দিরে। তার উপর গত কয়েক বছরে সমুদ্রের জলস্তর বেড়েছে। জোয়ারের সময় জলস্তর বাড়ছে প্রতিনিয়ত। সমুদ্রের ঢেউয়ে পুণ্যার্থীদের ভেসে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা তৈরি হলে, এই দুটি কুকুর তাদের বাঁচতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ল্যাব্রেডোর লিলি ও রোমিও দীর্ঘক্ষণ সাঁতার কাটতে পারে। রোমিও ও লিলিকে নিয়ে এনডিআরএফ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই মহড়া চালিয়েছেন।
অন্যদিকে এবারের গঙ্গাসাগর মেলাতে ইংরেজি ইউ আকৃতির রিমোর্ট চালিত লাইফবয়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূণ্যার্থীদের কেউ তলিয়ে সমুদ্রের অনেকটা দূর চলে যায়, তখন রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ইউ আকৃতির লাইভ বয়া পাঠিয়ে উদ্ধার করা হবে তাঁদেরকে। লাইফ বয়া ঘন্টায় প্রায় কুড়ি কিলোমিটার গতিতে উত্তাল ঢেউ কাটিয়ে পৌঁছে যাবে ডুবন্ত মানুষের কাছে।
