সূত্রের খবর, ওই দম্পতি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। আজ সকালে প্রথমে পল্লবী দাস গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন। তা স্বামী বিশ্বজিৎ দাসের নজরে পড়তেই তিনিও ঘরের বারান্দাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছয় রানাঘাট থানার পুলিশ (Ranghat Police Station), তারপর মৃতদেহগুলি উদ্ধার করা হয়।
পাড়া প্রতিবেশী সূত্রে খবর, স্বামী স্ত্রী’র মধ্যে কখনও অশান্তি ছিল না। কিন্তু হঠাৎ কি কারণে তারা এই ঘটনা ঘটালেন তা এখনও অস্পষ্ট তাঁদের কাছে। এই বিষয়ে বিশ্বজিৎ ও পল্লবীর এক প্রতিবেশী জানান, “ওই দম্পতি এই এলাকায় ভাড়া থাকত। সবার সঙ্গেই খুব ভালো সম্পর্ক ছিল তাঁদের। সবার সঙ্গেই মিশত। বাইরে দেখা হলেই অনেক কথা হত। কোনোদিন মনে হয়নি যে এরকম কিছু ভয়ানক কাণ্ড ঘটে যেতে পারে। এবার বাড়ির ভিতরে যদি কোনও চাপা কলহ থেকে থাকে, সেটা আমাদের পক্ষে বাইরে থেকে জানা সম্ভব নয়।” ওই প্রতিবেশীর আরও দাবি, “বাড়ির ভিতর থেকে কোনোদিন কোনও ঝগড়া ঝামেলা বা দাম্পত্য কলহের আওয়াজ পাওয়া যায়নি। তাই এখানে সবাই খুবই অবাক লাগছে যে কি এমন হল যে দুজনেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন।”
বিশ্বজিৎ ও পল্লবীর পরিবারের তরফ থেকেও কোনওরকম কলহ বা ঝগড়ার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “ওদের সঙ্গে মাঝে মধ্যে দেখা হত, ফোনে তো প্রায়ই কথা হত। কিন্তু কোনও দুজনের কেউই কোনোরকম ঝামেলার বিষয়ে আমাদের কিছু জানায়নি। সকাল সকাল থানা থেকে এইরকম একটি খবর পেয়ে আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছি। কি থেকে যে কি হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারলাম না।” ঘটনাস্থলে রানাঘাট থানার পুলিশ (Ranghat Police Station) গিয়ে দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। যদিও সেখানে কর্মরত চিকিৎসকেরা দুজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর দম্পতির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় রানাঘাট থানার পুলিশ। কি কারণে ওই দম্পতি আত্মঘাতী হলেন, তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
