বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি সংলগ্ন মেলায় ঘুরতে গিয়ে ইভটিজিংয়ের (Eve Teasing) শিকার হয় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ওই ছাত্রী, দাবি পরিবারের। অভিযোগ, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় তৃণমূলের (Trinamool Congress) পঞ্চায়েত সদস্যের নেতৃত্বে একদল যুবক ওই ছাত্রীর দাদাকে বেধড়ক মারধর করে। নিজের ভাইপোকে বাঁচাতে গিয়ে মার খান ওই যুবকের কাকিমাও।
এই অভিযোগেই গতকাল শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) এক পঞ্চায়েত সদস্য এবং আরও চার জনের নামে থানায় অভিযোগ করে ছাত্রীটির পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ৩৫৪ শ্লীলতাহানি, ৩২৩ মারধরের মতো জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই বিষয়ে মালদার পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব বলেন, “নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য অভিজিৎ সাহার উদ্যোগে প্রায় ২০ বছর ধরে গ্রামে সরস্বতী পুজো হচ্ছে। পুজো নিয়ে পাঁচ দিন ধরে মেলাও হয়। বৃহস্পতিবার রাতে বান্ধবীদের সঙ্গে মেলায় ঘুরতে গিয়েছিল ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী স্কুল ছাত্রীটি। অভিযোগ, মেলার মধ্যে চার যুবক ছাত্রীটিকে ইভটিজিং করে। সে সময় মেয়েটি তার দাদাকে ঘটনাটি জানায়।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে মেয়েটির দাদার সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকদের হাতাহাতি হয়। এরপরেই, মেয়েটির দাদাকে বাঁশ, লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, মেয়ের কাকিমাকেও মারধর করা হয়েছে। ঘটনার পড়ে গ্রামে হইচই পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। ছাত্রীটির কাকিমা বলেন, “ভাইজিকে মেলার মধ্যে কটু কথা বলা হয়। এমনকি, হাত ধরে টানাটানিও করা হয়। আমার ভাইপো প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। আমাকেও মারধর করা হয়েছে।”
মেলার উদ্যোক্তা তথা তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের নামেও অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মেয়েটিকে ইভটিজিং, মারধরের ঘটনায় আমার কোনও ভূমিকা নেই। মেলাতে গোলমাল শুনে আমি ছুটি গিয়েছিলাম। আমি কাউকে মারধর কিংবা তাতে মদত দিইনি।”
