West Bengal News : ভালোবেসে বিয়ের পর পণের জন্য নির্যাতন! বধূর ঝুলন্ত দেহ – kolkata haridevpur woman body recovered police started investigation


এই সময়: ফেসবুকে দু’জনের আলাপ। তার পর ভালোবাসা, বিয়ে। পরিবারের মত ছিল না বলে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে। কিন্তু দু’বছর ঘুরতে না-ঘুরতে সেই ভালোবাসার মানুষকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, পণের দাবিতে স্ত্রীর উপর ওই যুবক প্রায়শই অত্যাচার করতেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি তাঁর বাপের বাড়ির লোকজনকে জানিয়ে ছিলেন মাম্পি দাস (৩৩)। এমনকী, স্বামীর হাত থেকে নিস্তার পেতে বিবাহবিচ্ছেদও চেয়েছিলেন ওই যুবতী। তবে সে সব হওয়ার আগেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হলো মাম্পির। বৃহস্পতিবার, প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day) ও সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) দিন সন্ধ্যায় হরিদেবপুর থানা এলাকার কৈলাশ ঘোষ রোডের একটি আবাসনের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। মাম্পির বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, হয় তাঁকে খুন করা হয়েছে, না-হয় তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন তাঁর স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ওই ঘটনায় হরিদেবপুর থানার পুলিশ (Haridevpur Police Station) আপাতত বধূ নির্যাতন, পণের জন্য অত্যাচারের জেরে মৃত্যু ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা রুজু করেছে।

Howrah News : বিয়ের পর থেকেই অত্যাচার! গৃহবধূকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ জগৎবল্লভপুরে, ধৃত স্বামী
মামলায় মাম্পির স্বামী প্রণয় চন্দ্র ও প্রণয়ের মা-বাবা অভিযুক্ত হলেও তাঁরা পলাতক। তবে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মাম্পির ননদাই, মহেশতলার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্বজিৎকে দু’জনের সঙ্গে কৈলাশ ঘোষ রোডের ওই আবাসনে ঢুকতে দেখা গিয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জেনেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক জন পড়শির বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যায় বিশ্বজিৎ-সহ তিন জনকে মাম্পির সংজ্ঞাহীন দেহ নামিয়ে আনতে দেখা যায়। মাম্পির স্বামী প্রণয়কে মোটর বাইক চালিয়ে চলে যেতেও দেখেন পড়শিদের কয়েক জন। প্রণয়ের পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাঁরাই মাম্পির দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁরা সত্যি বলছেন কি না, সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। মাম্পির দেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পরেই তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Raiganj University : চপ শিল্পের গবেষণায় উৎসাহদাতা, বধূ নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অধ্যাপক
মাম্পির পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক আগে ফেসবুকে হরিদেবপুরের প্রণয়ের সঙ্গে আলাপ হয় মালদার মাম্পির। প্রণয় নিজেকে একটি ব্যাঙ্কের কর্মী হলে পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রণয় বিয়ে করার জন্য মাম্পির বাড়িতে প্রস্তাব দেন। কিন্তু মাম্পির বাড়ির লোকজন প্রণয়ের সঙ্গে মেয়ের দিতে রাজি ছিলেন না। এর পর বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন দু’জনে। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন পরেই মাম্পি জানতে পারেন, প্রণয় ব্যাঙ্কে কাজ করেন না! হরিদেবপুরের কৈলাশ ঘোষ রোডের একটি আবাসনে ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা। মাম্পির বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই মাম্পির উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করেন প্রণয়, তার পর শুরু হয় পণ চেয়ে অত্যাচারও

North 24 Paraganas News: লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন! অভিযোগ জানিয়েই থানা চত্বরে অসুস্থ গৃহবধূ
কৈলাশ ঘোষ রোডের বাসিন্দাদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোজ সকালে পুরসভার গাড়িতে আবর্জনা ফেলার জন্য মাম্পি ফ্ল্যাট থেকে নামতেন, কিন্তু সরস্বতী পুজোর দিন মাম্পিকে ফ্ল্যাটের বাইরে দেখা যায়নি। এক প্রতিবেশীর কথায়, ‘গত ছ’মাস ধরে ওই মহিলা ডিভোর্স চাইছিলেন। তা নিয়ে গোলমালও চলছিল।’ প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে মাম্পির ননদ এবং দু’জন লোক ফ্ল্যাটে ঢোকেন। তার বেশ কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, অচৈতন্য অবস্থায় ওই মহিলাকে তাঁর ননদ এবং দু’জন লোক নামিয়ে আনছেন। সেই সময়ে মাম্পির স্বামী প্রণয়কেও বাইক নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *