পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, শ্রীরামপুরের পিয়ারাপুর ছোটবেলু অঞ্চলে রাধাকান্ত মণ্ডলের বাড়ির একটি অংশ ভাড়া নিয়েছিল রাজেশ উপাধ্যায় নামে এক যুবক। অভিযোগ, সেখানে প্রায় দিন বন্ধুদের নিয়ে মদের আসর বসাত রাজেশ। ঘটনার দিন মদ খেয়ে হই হুল্লোর করার প্রতিবাদ করেন রাধাকান্তের পরিবার। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। হাতাহাতিতে আঘাত পান রাধাকান্ত। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন প্রতিবেশী মানিক দত্ত। রাজেশের সঙ্গে রিষড়ার এক তৃণমূল কাউন্সিলর ঘটনার সময় ছিলেন। ওই কাউন্সিলর রিষড়া পুরসভার (Rishra Municipality) চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্রের ভাই টিঙ্কু মিশ্র। হাতাহাতির ঘটনার পর শ্রীরামপুর থানায় খবর দেওয়া হয় ওই পরিবারের তরফে।
পুলিশ অভিযোগ পেয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করে। যদিও এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রাজেশ উপাধ্যায় অধরা। ধৃতদের শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করা হয়। তাদের চার দিন জেল হেফাজত হয়েছে দিয়েছে আদালত। বাড়িওয়ালা রাধাকান্ত মণ্ডল জানান, বেশ কিছুদিন আগে অফিস ঘর করার জন্য ভাড়া নেন রাজেশ উপাধ্যায়। কিন্তু তিনি অফিস ঘর করার জন্য ভাড়া নিলেও রাত্রি হলেই সেখানে মদের আসর বসায়। এর আগেও বহুবার তাঁকে এই নিয়ে বারণ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি শোনেননি।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলায় দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা বাধে। মদের আসরে চূড়ান্ত হুল্লোড়ের প্রতিবাদ করেন রাধাকান্ত মণ্ডল। বন্ধুদের নিয়ে চলে যেতে বলা হয়। এরপরেই দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা আরও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়। রাজেশ তাঁর উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। রাধাকান্ত মণ্ডলকে রাস্তার উপর ফেলে মারধর করা হতে থাকে বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীরা আটকাতে গেলে তারাও আক্রান্ত হন বলেও অভিযোগ। পুরো ঘটনা CCTV ক্যামেরায় ধরা পরে। রাধাকান্তর আরও দাবি তিনি তৃণমূল কর্মী। তাঁকে মারধর করেছে যারা তাঁরাও তৃণমূল কর্মী বলে অভিযোগ। শ্রীরামপুর থানার (Serampore Police Station) পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় রাজনীতি নেই। তবে মারামারি হয়েছে। সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মূল অভিযুক্ত রাজেশকে খোঁজার জন্য তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
