“ব্যারাকে গিয়েই খেয়ে নেব…”, বাবা সন্ন্যাসী বিশ্বাসকে চার বছর আগে আজকের দিনে এমনটাই জানিয়েছিলেন সুদীপ। “তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরব, তোমরা চিন্তা করো না”, প্রাণোচ্ছ্বল ছেলেটার সেই শব্দগুলো আজও বাবার বুকে হাজার আঘাতে বিদ্ধ করে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই নদিয়ার বিশ্বাস পরিবারে ঝড়। বছরের ৩৬৪ দিন তবুও বৃদ্ধ বাবা-মাকে বুক দিয়ে আগলে রাখার চেষ্টা করেন সুদীপের দিদি ঝুম্পা বিশ্বাস। কিন্তু, ১৪ ফেব্রুয়ারি হলেই…
ঝুম্পা বলেন, “বাবা-মা দু’জনেই অসুস্থ। তাঁদের দেখাশোনা আমিই করি। আজকের দিনটা এলেও মা-বাবাকে সামলানো মুশকিল হয়ে যায়। ভাই যে নেই, ওরা তা মানতে পারে না।” এদিন সকাল থেকেই কিছু দাঁতে কাটতে চাননি সুদীপের মা মমতাদেবী। ছেলে শোকে কাতর এই প্রবীণার চোখ বারিধারা। মায়ের মাথা কোলে চেপেধরে আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন মেয়ে…”আমি এখানেই আছি, সুদীপ শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে দেশের জন্য লড়েছে মা…”। কিন্তু, মায়ের আকুল কান্না কী আর থামে!
বাবা সন্ন্যাসী বলেন, “ছেলেটা বলেছিল ভালো আছে। বাড়ি ফিরবে। হঠাৎ ফোন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জোয়ান ছেলেটার দেহ বাড়ির উঠোনে যখন নামাল…উফ এই কষ্ঠ কী করে বলি। তবে ছেলে দেশের জন্য শহিদ হয়েছে, এই কথাটা ভাবলেই বুক গর্বে ভরে যায়।”
সুদীপের দিদি ঝুম্পা বলেন, “কেরালাতে ট্রেনিংয়ের পর ওকে কাশ্মীরে পোস্টিং দিয়েছিল। ২০১৮ সালে ডিসেম্বর মাসে সুদীপ বাড়িতেও এসেছিল। সেই সময় ওর বিয়ের কথাবার্তা চলে। কিছু মেয়েও দেখা হয়েছিল। আমাদের ছোট্ট সাজানো সংসার, এক মুহূর্তে সব এলোমেলো হয়ে গেল।” তিনি বলেন, “অনেক কষ্টে মাকে বেলার দিকে খাওয়াতে পেরেছি। বাবা সামনে কাঁদতে পারছে না। আড়ালে আবডালে চোখের জল মুছছেন। সকলের কাছে এটা ভালোবাসার দিন, আমাদের সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার সময় ১৪ ফেব্রুয়ারি।”
