Child Marriage Act : বিয়ে রুখে হ্যাটট্রিক কন্যাশ্রী ক্লাবের – keshpur students of kanyashree club stopped child marriage


সমীর মণ্ডল, মেদিনীপুর

গল্পটা নিরবচ্ছিন্ন জয়ের। টানা দু’বারের পর তৃতীয় বারও কোনও মতে হারতে চায়নি ওরা। দু-বারের সাফল্য তৃতীয় বার জয়ের জেদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এ বারও মনের জোর আর সাহসে ভর করে এক নাবালিকার বিয়ে আটকাল কেশপুরের কন্যাশ্রী ক্লাবের পড়ুয়ারা।

ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকের গোলাড় সুশীলা হাইস্কুলের। নেপথ্যে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ের গল্প। শুক্রবার সন্ধে। কেশপুরের গ্রামে এক স্কুলছাত্রীর নজরে আসে, তাদের তিনটে বাড়ি পরে তোড়জোড় চলছে বিয়ের।

West Bengal News : স্কুল থেকে ফেরার পথেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে কোপ
নেহাতই কৌতূহল থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, যার বিয়ে, সে আসলে নাবালিকা। কারণ, বিয়ের পাত্রী তারই সঙ্গে এক স্কুলে, এক ক্লাসে পড়ে। হাতে থাকা মোবাইল ফোনে সেই খবর ছাত্রীটি দ্রুত জানিয়ে দেয় অন্য এক সহপাঠীকে।

সে আবার জানায় আর একজনকে। এ ভাবে একজন দু’জন করে খবর পৌঁছে যায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে। এ দিকে, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা ততক্ষণে এক জায়গায় জড়ো হয়ে গিয়েছে।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ের সম্বল বলতে একরাশ প্রতিজ্ঞা। যে ভাবেই হোক বিয়ে বন্ধ করে সহপাঠীকে ফেরাতে হবে স্কুলে। ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কর্তাদের কানে পৌঁছে গিয়েছে পুরো ঘটনা।

Child Marriage In Assam : বাল্যবিবাহ আটকাতে কড়া অসম, নজর এড়াতে হাসপাতাল এড়াচ্ছে নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বারা
থানা থেকে দ্রুত নির্দেশ পৌঁছয় স্থানীয় এক সিভিক ভলান্টিয়ারের কাছে। তাঁকে বলা হয়, প্রশাসন এবং কন্যাশ্রীর দল পৌঁছনোর আগে তাঁর কাজ, বিয়েবাড়ির সক্রিয়তায় নজরদারি চালানো। ঘড়ি ধরে ঠিক আধঘণ্টার মধ্যে কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরাও পৌঁছয় ১৭ বছরের ওই মুসলিম ছাত্রীর বাড়িতে।

শুরু হলো পরিবারের লোকেদের দফায় দফায় বোঝানোর কাজ। বহু কসরতের পরে শেষ পর্যন্ত এল সাফল্য। বিয়ে বন্ধ করে নাবালিকাকে স্কুলে ফেরত আনার বিষয়ে আদায় করা গেল প্রতিশ্রুতি।

সরকারি নিয়ম মেনে মেয়ের ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেবে না বলে বাবা-মা’কে দিয়ে মুচলেকাও লিখিয়ে নিল ছাত্রীরা। কেশপুরের বিডিও দীপক ঘোষ শনিবার বলেন, “গোলাড় সুশীলা বিদ্যাপীঠের মেয়েরা (কন্যাশ্রী ক্লাব) ভালো কাজ করছে। আগেও কয়েকটি বিয়ে আটকেছে এই ক্লাবের সদস্যরা। শুক্রবার রাতে স্কুল থেকে আমাদের জানানো হয়, এক নাবালিকা মেয়ের বিয়ের আয়োজন করছে তার পরিবার। জয়েন্ট বিডিও প্রসেনজিৎ নন্দীকে পুলিশ দিয়ে পাঠানো হয়েছিল সেখানে। তবে কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরাই মূল উদ্যোগ নেয়।”

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদেরী বলেন, “এই ধরনের কাজের জন্যই স্কুলে স্কুলে কন্যাশ্রী ক্লাব তৈরি করা হয়েছে। কেশপুরের গোলাড় স্কুলের পাশাপাশি খড়্গপুর-১ ব্লকেও একটি নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র পড়িয়া স্কুলের ছাত্রীদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত।

Child Marriage Act In Assam : ‘রাজ্যে সচেতনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কমছে নাবালিকাদের বিয়ে’, দাবি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর
তিনি বলেন, “এর আগেও আমাদের স্কুলের কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা কয়েক জন নাবালিকার বিয়ে আটকেছে। একটি ক্ষেত্রে বিয়ের আসরে বসে যাওয়া নাবালিকাকেও বুঝিয়ে সুজিয়ে স্কুলে ফিরিয়েছে। শুক্রবার এমন একটি মেয়ের খবর শুনে ছাত্রীরা আমাকে জানায়। আমি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনকে জানালে তাঁরা হাজির হন ঘটনাস্থলে। সকলের সহযোগিতায় বিয়ে আটকে নাবালিকা ছাত্রীকে ফেরানো সম্ভব হয়েছে স্কুলে। এটা ছাত্রীদের সাফল্য।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *