দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাহাজটির নাবিক ও স্থানীয়রা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে নদীতে দৃশ্যমান্যতা অনেক কম ছিল। জানা যায়, বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে আসা একটি খালি জাহাজ ধাক্কা মারে ভারত থেকে ফ্লাই অ্যাশ বোঝাই করে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা অপর জাহাজে। পরে ফ্লাই অ্যাশ বোঝাই জাহাজটি ডুবতে শুরু করলে সেটিকে ধীরে ধীরে তীরের দিকে আনতে থাকেন নাবিক।
কিন্তু এত চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হয়নি। ইতিমধ্যেই জাহাজটির প্রায় ৯০ শতাংশ ডুবে গিয়েছে। তবে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় জাহাজটির সকল সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া জাহাজের কর্মী পুলক কুমার মণ্ডল জানান, “বাঁ দিক থেকে এসে জাহাজটি আমাদের ধাক্কা মেরেছে।
এই সময় একই জায়গায় নদীতে আরও ৫টি জাহাজ ছিল”। শুধুমাত্র কুয়াশার কারণেই যে দুর্ঘটনা ঘটে এই কথা তিনি মানতে নারাজ। তার অভিযোগ অপর জাহাজটি সঠিক নির্দেশনা মানছিল না।
এই দুর্ঘটনার খবর বাংলাদেশের এজেন্সিতে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনার খবর চাউর হলে এলাকায় ভিড় জমান স্থানীয়রা। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “ভোর ৫টা নাগাদ নদীতে দুর্ঘটনা হয়েছে। কুয়াশার জন্য দু’টি জাহাজের মধ্যে ধাক্কা লেগেছে। একটি জাহাজ থেকে ৯ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছি আমরা”।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঠিক একমাস আগে একইরকম ভাবে দুটি জাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষে হুগলি নদীর চরে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশের একটি জাহাজ। ওই জাহাজটি ব্যান্ডেল থেকে ছাই নিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার সময় হুগলি নদীর চরে আটকে যায়। হুগলি নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় জাহাজটি চরে আটকে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল।
হুগলি নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ আটকে পড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। হুগলি নদীর নাব্যতা কমছে প্রতিনিয়ত। এই কারণে হরহামেশাই নদীটি দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন দেশের জাহাজ চরে আটকে পড়ার ঘটনা ঘটছে। মুখোমুখি সংঘর্ষও হচ্ছে জাহাজগুলির। আর এই সংঘর্ষগুলি হচ্ছে কম নাব্যতা এলাকাগুলি এড়িয়ে জাহাজ চালাতে গিয়েই, এমনটাই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
