Holi 2023 : হরির লুট থেকে এলাহি ভূরিভোজ, শোভাবাজার রাজবাড়িতে রঙের উৎসবে নানা চমক – holi and dol jatra celebration at sovabazaar rajbari kolkata


গৌতম বসুমল্লিক

এক সময়ে, কলকাতার পুরনো বাড়িগুলির দোলের উৎসব ছিল খুবই জাঁকজমকপূর্ণ। প্রধানত গৃহদেবতাকে কেন্দ্র করেই জমে উঠত দোলের উৎসব। অবশ্য সেই সঙ্গে সামাজিক মেলামেশা এবং পারিবারিক বৈভব প্রদর্শনও ছিল বনেদি বাড়ির দোলের অন্যতম উদ্দেশ্য। দোল উপলক্ষে অনেক বাড়িতেই গানবাজনার আসর বসত ব্যবস্থা থাকত এলাহি খাওয়াদাওয়ারও। এখন কিন্তু, কলকাতার পুরনো বাড়িগুলির দোল উৎসবে সেই জাঁকজমক নেই। ভাটা পড়েছে অতিথি সৎকারের ব্যবস্থাতেও।

Dol Purnima: মদনমোহনের পায়ে-কপালে ভেষজ আবির মাখিয়েই দোল উদযাপন
শোভাবাজার দেব পরিবারের দু’টি তরফ। পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা নবকৃষ্ণ দেবের দত্তকপুত্র গোপীমোহনের পরিবারের অর্থাৎ বড় তরফের গৃহদেবতা ‘গোবিন্দ জিউ’ এবং নবকৃষ্ণের ছেলে রাজকৃষ্ণের পরিবার, অর্থাৎ ছোট তরফে গৃহদেবতা ‘গোপীনাথ জিউ’কে ঘিরেই এই দুই তরফের দোল উৎসব।

একই পরিবারের হলেও দু তরফের দোলের অনুষ্ঠান হয় এক দিন আগে-পরে। ছোট তরফের গোপীনাথ জিউ- এর দোল আগে। পরের দিন হয় গোবিন্দ জিউ-এর দোল। দু’তরফের প্রস্তুতি অবশ্য আরম্ভ হয়ে যায় দোলের বেশ কিছু দিন আগে থেকে। দেব পরিবারের সদস্যেরা এই সময়ে ব্যস্ত থাকেন পুজোর উপাচার সংগ্রহ থেকে আরম্ভ করে গৃহদেবতার সিংহাসন সাজানো, অতিথি আপ্যায়নের মিষ্টান্ন প্রস্তুতি ইত্যাদি নানা কাজে। দোলের ঠিক আগের দিন গোপীনাথ জিউ-এর দোলের চাঁচর। বাড়ির
ছেলেরা ঠাকুরদালানের সামনের উঠানে তৈরি করেন খড়ের তৈরি ‘হোলিকা’ বা ‘মেড়া’। গৃহদেবতাকে ঠাকুরদালানের সিংহাসনে বসিয়ে সন্ধ্যার সময়ে পুজো করে আগুন দেওয়া হয় মেড়ায়। তারপর পুজো শেষ হলে আরম্ভ হয় গান। সেই গান শেষ হলে হরির লুট দেওয়া হয় এবং সেদিন একটু আবির খেলাও হয় নিজেদের মধ্যে। সবশেষে থাকে ভূরিভোজ।

Dol Utsav 2023 : বসন্তের রঙে রঙিন লাল মাটির দেশ, উৎসবে সামিল মন্ত্রীও
পরের দিন দোল। ‘দেবদোল’-এর পুজো আরম্ভ হয় ভোর চারটের সময়ে। এ ছাড়া আরও দু’বার পুজো হয়। দ্বিতীয় বারের পুজো বেলা বারোটায় আর শেষ পুজো বিকেল চারটের সময়ে। ভোরে গোপীনাথের বিগ্রহে আবির রং ছুঁইয়ে আরম্ভ হয় পরিবারের দোল খেলা। আবির ছাড়াও ভাল রঙ ও কুমকুমের ব্যবহারও হত এক সময়ে। হৈ-হুল্লোড় করে দিন শেষ না হতে হতেই আরম্ভ হয়ে যাবে বড় তরফের গৃহদেবতা ‘গোবিন্দ জিউ’-এর চাঁচরের প্রস্তুতি। দু’বাড়ির রীতিনীতি প্রায় একই রকম, তফাৎ খালি দিনের।

Holi 2023 : দোল পূর্ণিমায় সাড়ম্বরে চলছে মহিষমর্দিনী পুজো, শ্রীরামপুর মানুষের ঢল
দোল-উৎসবের নিয়মকানুন আগেকার মতো থাকলেও জাঁকজমকে ভাটা পড়েছে অনেকটাই। তবু পুরনো রীতিনীতি বজায় রেখেই পরিবারের সদস্যেরা সামিল হন রঙের উৎসবে। শোভাবাজার দেব পরিবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য চাঁচরের গান। বহুকাল আগে পরিবারের সদস্যেরা দোলের গান লিখে সুর দিয়ে গিয়েছেন। পরম্পরা মেনে চাঁচরের দিন সেই সব গান এখনও গাওয়া হয়। পুরুষ-নারী নির্বিশেষে পরিবারের সকল সদস্য অংশগ্রহণ করেন হোলির গানে। এক সময়ে খুবই জাঁকজমকপূর্ণ ছিল এই পরিবারের দোল উৎসব। এখন আর সেই রকম ভাবে হয় না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *