Baruni Snan 2023 : হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথি উপলক্ষ্যে সাজ সাজ রব ঠাকুরনগরে, বারুণী স্নানে মানুষের ঢল – baruni snan 2023 people gathered


West Bengal News : লাখ লাখ মানুষের সমাগম বারুণীর স্নান যাত্রায়। শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথি উপলক্ষ্যে সাজ সাজ রব ঠাকুরনগরে। কৃষ্ণ চতুর্দশীর ত্রয়োদশ তিথিতে জন্মেছিলেন শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর । ১৮১২ সালে অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ থানার সাফলাডাঙা গ্রামে এক নমঃশূদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। রবিবার থেকেই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে ঠাকুরবাড়িতে।

Thakurnagar Mela 2023 : রবিবার শুরু ঠাকুরনগরের ঐতিহ্যবাহী বারুনী মেলা, শুভেচ্ছাবার্তা প্রধানমন্ত্রীর
ঠাকুরের জন্মতিথি উপলক্ষ্যে ঠাকুরবাড়ির মন্দির লাগোয়া জলাশয়ে স্নান করেন মতুয়াধর্মের মানুষজন। এরপর লাল -সাদা দ্বিরঞ্জিত নিশান উর্ধ্বে তুলে ডঙ্কা ,কাঁসর, শিঙা বাজিয়ে প্রদক্ষিণ করেন গোটা ঠাকুরবাড়ি। হরিচাঁদ ঠাকুর জানতেন, বিপ্লব আনতে গেলে সংগ্রাম অনিবার্য। সংগ্রাম হলে রক্ত তো ঝরবেই।

Matua Maha Mela : ‘সবাই মতুয়া মহামেলায় অংশ নিন’, বাংলায় টুইট প্রধানমন্ত্রীর
তাই সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে তিনি বেছে নিলেন ত্রিকোণ নিশানের রঙ লাল। আর যুদ্ধের সমাপ্তিতে আসে শান্তি । তাই ত্রিকোণ লাল নিশানের বেষ্টনী সাদা রঙের কাপড় দিয়ে । এটাই মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে আজ নিশান। অসংগঠিত শোষিত নিম্নবর্ণের মানুষদের সংগঠিত করে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তিনি । তাই তিনি পতিতের উদ্ধারকর্তা।

Matua Mela : অবৈধভাবে মতুয়া ধর্ম মেলার বিল কাটার অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ মমতাবালা
হরিচাঁদ ঠাকুর ছিলেন ব্রাহ্মণ্য ধর্ম এবং বৈদিক আচারের সম্পূর্ণ বিরোধী। একমেবাদ্বিতীয়ম শক্তিতে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। তবুও তাঁর জন্মতিথিতে বৈদিক বারুণী দেবীর নাম জুড়ে যাওয়াটা তাঁর দর্শনের বিরোধী । এই বিষয়টি অনুধাবনের পর ১৯৮৫ সালের পর থেকে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি এই দিনটি বারুণীর স্নান নয় মতুয়া স্নান এবং মতুয়া মেলা হিসেবেই দেখে থাকে । কিন্ত বছরের পর বছর ধরে লোকমুখে এই দিনটি বারুণীর পূণ্য তিথির স্নান বলেই প্রচলিত হয়ে আসছে ।

Bhutdi Amavasya 2023: ২১ মার্চ এই সরল উপায়ে মুক্তি পাবেন অতৃপ্ত আত্মার প্রভাব থেকে, জানুন এখনই
শক্তির উৎস হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ‘হরি বোল’ ধ্বনি । যা আসলে শক্তি সঞ্চয় করে। ডঙ্কা, কাঁসর বাজিয়ে নাচের মাধ্যমে মতুয়ারা তাঁদের মধ্যেকার সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করে। জমিদার শ্রেণি এবং বর্ণ হিন্দুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের ওরাকান্দিতে বসে যে নয়া বিধান দিয়েছিলেন তিনি, সেটাই সেদিন আত্মপ্রকাশ করেছিল মতুয়াধর্ম হিসেবে। সোওয়া হাতের সোতা বা দণ্ড হাতে নিজ গোষ্ঠীর পরিচালনা এবং ‘হাতে কাম মুখে নাম’ করে শক্তি সঞ্চয়ের মাধ্যমে মতুয়াদের জাগ্রত করার পথ দেখিয়েছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর ।

শিক্ষা বিস্তারে জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন পুত্র গুরুচাঁদের হাতে। পরপর দু’বছর হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথিতে ভক্তদের সমাগমে বিধিনিষেধ ছিল করোনা সংক্রমণের ভয়ে। ফলে এই বছর হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১২ তম জন্মতিথিতে মতুয়া মেলায় প্রথম দিন থেকেই ভিড় উপচে পড়েছে । সকাল থেকে সন্ধ্যে চলছে জনস্রোত। কিন্তু মতুয়া মেলার পাঁচ দিন কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও ভক্তদের জন্য অবারিত দ্বার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *