দক্ষিণ পূর্ব রেলের হাওড়া খড়গপুর ডিভিশনে সাঁতরাগাছি স্টেশনে কর্মরত টিকিট চেকিং স্টাফ পিকে দাস। তিনি ২০২৩ সালে ২৬ মার্চ পর্যন্ত বিনা টিকিট যাত্রা করার জন্য যাত্রীদের থেকে এক কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছেন এবং তা জমা করেছেন রেলের খাতায়।
তাঁর সহকর্মীরা জানাচ্ছেন, চাকরির মধ্যবয়সে রয়েছেন তিনি। কিন্তু, সেভাবে ছুটি নেন না। কাজ অন্তপ্রাণ। স্টেশনেও পৌঁছন একেবারে নির্দিষ্ট সময়ে। একমিনিট ঘড়ির কাঁটা এদিক ওদিক হয় না।
ট্রেন থেকে যাত্রীরা বার হওয়ার পরেই নরম-শান্ত গলাতে তাঁদের থেকে টিকিট দেখতে চান। কিন্তু, কারও কাছে টিকিট না থাকলে শক্তহাতে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেন। নিয়ম মেনে করেন জরিমানা। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন খড়গপুর ডিভিসনের ডিসিএম রাকেশ কুমার।
তিনি বলেেন, “পিকে দাস প্রায় ৩০৪ দিন কাজ করে ১১ হাজার ৮১৬ জন বিনা টিকিটের যাত্রীদের থেকে এক কোটি ২২ হাজার ২৭০ টাকা আদায় করে দক্ষিণ পূর্ব রেলের খাতায় জমা করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবর্ষে এই ডিভিশনে ৪২১ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। পিকে দাসকে আমরা সম্মান জানাচ্ছি।”
এদিকে যাকে নিয়ে এত আলোচনা সেই পিকে দাস ঠিক কী বলছেন? এই প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি আলাদা করে কোনও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে রাজি হননি। তাঁর কথায়, “এটাই আমাদের কাজ। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। বিনা টিকিটে যাতায়াত করা আইনত অপরাধ। এরজন্য জরিমানাও ধার্য রয়েছে। কিন্তু, আমার মনে হয় সাধারণ মানুষ যদি একটু সচেতন হন সেক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব।”
তাঁর আরও সংযোজন, “সকলের কাছে আর্জি জানাব আপনারা টিকিট কেটে ট্রেনে উঠুন। দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন।” পাশাপাশি নিজের কাজে আগামীদিনেও অবিচল থাকবেন বলে জানান এই টিটি।
