Alipurduar News : মাঝরাতে হাতি দেখার শখ, হাত ছিঁড়ে নিল গজরাজ! – alipurduar elephant twist the trunk and beat an old man


এই সময়, আলিপুরদুয়ার: শেষ পর্যন্ত হাতি দেখার কৌতূহলই কি কাল হলো প্রৌঢ়ের? বুধবার রাত দেড়টায় গ্রামে হাতি এসেছে টের পেয়ে সাহসে ভর করে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলেন বাবলু রহমান (৪৯)। করাল অন্ধকারে তিনি ঠাহরই করতে পারেননি যে, সাক্ষাৎ দাঁতাল ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়েছিল তাঁর ঘরের দক্ষিণ দিকে। সামনে পড়তেই বাবলু রহমানকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছাড় মারে ওই বুনো দাঁতাল।

Alipurduar News : পিঠ চুলকাতে ভুট্টাখেতে ঢুকছে গন্ডার! কৃষকদের সাড়ে সর্বনাশ
তাতেই তিনি ছিটকে পড়ে যান নর্দমায়। তাঁর আর্ত চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখেন যে, ওই দাঁতালের হানায় বাবলুর ডান হাতের নব্বই শতাংশ ছিঁড়ে গিয়েছে। বীভৎস দৃশ্য দেখে চমকে ওঠেন জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন লছমনডাবরি এলাকার বাসিন্দারা। প্রথমে বাবলু রহমানকে গুরুতর জখম অবস্থায় ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শিলিগুড়ি যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় বাবলু রহমানের।

Mamata Banerjee : হাতি রুখতে মমতার কাছে আট দফা দাবি
দিনের আলো ফুটতেই ওই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবল বিক্ষোভ ছড়ায় স্থানীয় জনতার মধ্যে। টানা চার ঘণ্টা জলদাপাড়া পশ্চিম রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার মৃগাঙ্ক মাইতি-সহ অন্যান্য বনাধিকারিকদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। দাবি ওঠে বাবলু রহমানের এমএ পাশ কন্যাকে সরকারি চাকরি দিতে হবে। এছাড়াও মৃতের এক জন মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত সবাইকে বুঝিয়ে মৃতের কন্যার চাকরির আবেদনপত্র বন দপ্তর গ্রহণ করলে বিক্ষোভ প্রশমিত হয়।

Buxa Tiger Reserve : বক্সার ‘ত্রাসে’-র খোঁজ মিলল কোচবিহারে! স্বস্তিতে কর্তারা
বন দপ্তরের পক্ষ থেকে মৃতের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মৃতের নিকটাত্মীয় আতায়ুর রহমান বলেন, ‘ঠিক কোন কৌতূহলের কারণে যে বাবলু হাতি দেখার জন্য ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিল, তা মাথায় ঢুকছে না। ওর চিৎকারে ছুটে এসে যে দৃশ্য দেখি, তাতে শিউড়ে উঠতে হয়।’

Jhargram News : ‘দুষ্টু’ হাতিকে ফেরাতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে বনকর্তারা
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণী সংরক্ষক নভজিৎ দে বলেন, ‘যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু ওই ভাবে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নেওয়াটাই সর্বনাশ করে দিল। এতো সচেতনতা প্রচার করার পরেও বেলাগাম কিছু মানুষের যে হুঁশ ফিরছে না, লছমনডাবরির ওই দুর্ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *