জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চন্দন কাঠ গুলির বাজার মূল্য কমপক্ষে চৌষট্টি লাখ টাকা। লাল চন্দন কাঠের অবৈধ কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুত্রের খবর, ধৃতদের মধ্যে এক জন পূর্ত দফতরের সহকারী বাস্তুকারও রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বেও কয়েক বছর আগে ওই মেন্দাবাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছিল কোটি কোটি টাকার অবৈধ লাল চন্দন কাঠ। সেই ঘটনায় নাম জড়িয়ে ছিল কালচিনির এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার। যা নিয়ে সেই সময় বেশ হইচই পড়ে গিয়েছিল।
তবে এখনও পর্যন্ত ঠিক কোথা থেকে ওই অবৈধ লাল চন্দন কাঠ গুলি উত্তর মেন্দাবাড়িতে মজুত করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট জানতে পারেনি বন দফতর। লাল চন্দন কাঠ এক মাত্র দক্ষিণ ভারতেই উৎপন্ন হয়, তা কারোরই অজানা নয়। তাতেই বনকর্তাদের অনুমান, কোনও প্রভাবশালী পাচার চক্র ওই বেআইনি লাল চন্দন কাঠ উত্তর মেন্দাবাড়িতে পৌঁছে দিয়ে থাকতে পারে।
ঘটনায় ওই পাচার চক্রের হদিশ পেতে তদন্তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বন কর্তারা। তার মধ্যে ওই পাচার চক্রে পূর্ত দফতরের এক সহকারী বাস্তুকারের নাম জড়িয়ে যাওয়াতে, তদন্তে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না বন দফতর। জানা গিয়েছে, আগামীকাল শনিবার অভিযুক্তদের আলিপুরদুয়ার আদালতে পেশ করে, নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে বন দফতর।
তবে ফের জেলার কালচিনি ব্লকের উত্তর মেন্দা বাড়িতে লাল চন্দন কাঠ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শিরোনামে উঠে এসেছে আলিপুরদুয়ার। এই অভিযান নিয়ে উত্তর বিন্দাবাড়ির এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “ওই বাড়িতে যে এসব কাণ্ড চলছে তা আমরা এলাকার কেউই বুঝতে পারিনি। আজ যখন বন দফতরের কর্তারা অভিযান চালিয়ে কাঠগুলি উদ্ধার করলেন, তখন আমরা আসল ঘটনা জানতে পারলাম। আমাদের এই জায়গা বা আসে পাশের এলাকা থেকে মাঝে মধ্যেই বন দফতর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জীবজন্ত বা দামি কাঠ উদ্ধার করে। কিন্তু লাল চন্দন কাঠ বেশ অনেক বছর পর এই এলাকা থেকে উদ্ধার হল।”
