এই পরিস্থিতিতে রবিবার সরেজমিনে তদন্তে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের মৃত কিশোরীর বাড়িতে গেলেন জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন প্রিয়াংক কানুনগো৷ রবিবার সকাল সাড়ে ৮ টা নাগাদ রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় অবস্থিত সার্কিট হাউস থেকে মৃতার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের কনভয়। জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন প্রিয়াংক কানুনগোর নেতৃত্বে ৩ সদস্যর দল গ্রামে যান। কথা বলেন মৃতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।
এদিন মৃত কিশোরীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রিয়াংক কানুনগো বলেন, “আমরা ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। সমস্ত কথা বার্তা রেকর্ড করা হয়েছে। ওই পরিবারের লোকজন সমস্ত ঘটনা আমাদের খুলে বলেছেন। এরপর আমরা পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।”
আজ, রবিবার সকাল থেকেই এলাকা থমথমে। পুলিশ গত কাল থেকেই চত্বরের দখল নিয়েছিল। এলাকা সুনসান। সব দোকান-পাট বন্ধ। জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। প্রশাসনের তরফ থেকে ঘোষণা, আগামী ৭ দিন ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলছেন একের পর এক BJP নেতা মন্ত্রীরা।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, BJP রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের পর এবার এই বিষয়ে মুখ খুলে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বাঁকুড়ার সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার। এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত ১২ বছর ধরে ধর্ষকদের রক্ষা করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পার্ক স্ট্রীট কাণ্ড সব থেকে বড় প্রমাণ। ওই তদন্তে অগ্রগতির সময়েই তদন্তকারী আধিকারিককে বদলে ফেলা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। তাঁরা অনেকটাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আর কালিয়াগঞ্জে যেটা হয়েছে সেটা পুলিশ প্রশাসনের অপদার্থতার ফল। যদি এখুনি এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এই প্রতিবাদের আগুন ধীরে ধীরে অন্য জেলাতেও ছড়িয়ে পড়বে।”
জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সনপ্রিয়াংক কানুনগোকে নাকি আজ কালিয়াগঞ্জে বাধা দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “এটা এই রাজ্যে নতুন কিছু নয়। এই ঘটনা আগেও ঘটেছে। যত এরকম বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটবে, এই ধরনের ভয়ানক ঘটনা রাজ্যে ঘটতে থাকবে।”
