এরপর তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “মঙ্গলবার দুপুরে কালিয়াগঞ্জে থানা অভিযান কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছিল রাজবংশী তফসিলি আদিবাসী সমন্বয় কমিটি। এই খবর আগে থেকেই পুলিশের কাছে ছিল। কিন্তু এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদিও আমাদের কাছে এই খবর ছিল না যে এই কর্মসূচির আড়ালে থানায় হামলা করা হবে। এই ঘটনায় মহিলাদেরকে সামনে রেখে পিছনে ছিল পুরুষদের একটি দল। তাই পুলিশ প্রথমে যথেষ্ট সংবেদনশীল ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পুলিশ কিছুটা লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে বাধ্য হয়।”
ADG আরও বলেন, “এই সুযোগে কিছু দুষ্কৃতী থানার দিকে এসে থানার বাইরে রাখা বাজেয়াপ্ত করা গাড়িগুলির কয়েকটাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। যদিও তাঁরা থানার ভিতরে কোনোরকম আগুন লাগাতে পারেনি।” এই ঘটনায় মোট ১৭ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ADG অজয় কুমার।
সেই সঙ্গে জানিয়েছেন যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদেরকে রায়গঞ্জে রেফার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। এরপরেই ADG বলেন, “সম্প্রতি কালিয়াগঞ্জে নাবালিকাকে নিয়ে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে, গ্রেফতারও হয়েছে। তারপরেও এই ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত। আমাদের ডিপার্টমেন্টের তরফ থেকে সমস্ত ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। ঠিক সময়ে এর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে। যে ২৫-৩০ জন কে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের খুব তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা হবে।”
এদিকে এই ঘটনার পর বিকেল থেকেই কার্যত অঘোষিত বনধের চেহারা নিয়েছে গোটা কালিয়াগঞ্জ। রাস্তাঘাট পুরো শুনশান বলেই জানা গিয়েছে। দোকানপাটও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এদিনের এই বিক্ষোভ কর্মসুচিতে রীতিমতো মারমুখী হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা।
তাঁরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা থানায় ঢুকে ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় থানার বাইরে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় থানায় রাখা একাধিক বাইক।
