প্রকাশ্য সভা থেকে এবার বিজেপি কর্মীদের মারধর করার হুমকি তৃণমূল নেতার। শনিবার কালিয়াগঞ্জকাণ্ডের প্রতিবাদে পাণ্ডুয়ায় এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে তৃণমূল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাণ্ডুয়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ সহ অন্যান্য জেলা নেতৃত্ব। সেই সভা থেকেই বিতর্কিত বক্তব্য শোনা যায় তৃণমূল ব্লক সভাপতি সঞ্জয় ঘোষের গলায়।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “বিজেপি বলছে তৃণমূল চোর। সব চেয়ে বড় চোর তো শুভেন্দু। যদি বড় চোর ধরা না পড়ে পাণ্ডুয়ায় বিজেপির কোনও অস্তিত্ব আমি রাখব না। বিজেপি দেখবে আর এমন মার মারব, বিজেপি করা ভুলে যাবে।” তৃণমূল নেতার এই বক্তব্যকে সভা থেকে হুমকি ঘিরে বিতর্ক।
বিজেপি হুগলি জেলা সম্পাদক সুরেশ সাউ জানান, তৃণমূলের শীর্ষনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন বিরোধীরা পঞ্চায়েত নির্বাচনে নির্ভয়ে প্রার্থী দিতে পারবেন। কোথাও বাধা দেওয়া যাবে না। আর তৃণমূলের নীচুতলার নেতা মারধর করার হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছে। তাঁর কথায়, “আসলে দলের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। এটাই তৃণমূলের আসল ছবি।”
একের পর এক ঘটনায় হুগলি জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে বিগত কয়েক মাস ধরে। মাসখানেক আগেই হুগলি জেলার রিষড়ায় অশান্তি ছড়ায়। রামনবমীর মিছিল ঘিরে ভাঙচুর, ইটবৃষ্টি, আগুন, বাদ যায় না কিছুই। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। প্রশ্নের মুখে পড়ে পুলিশের ভূমিকাও। পরে রিষড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকা সহ একাধিক জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সন্ত্রাস নিয়ে একাধিক বার সুর চড়িয়েছেন বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দল। আইন শৃঙ্খলার অবনতির উদাহরণ টেনে নির্বাচন কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে করানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বিগত কয়েক মাস ধরেই তৃণমূল – বিজেপি সহ অন্যান্য দলের রাজনৈতিক সংঘর্ষের কথা উঠে এসেছে একাধিক জেলা থেকে। এর মধ্যেই এরকম ধরনের উত্তপ্ত রাজনৈতিক ভাষণ যে উত্তেজনার মাত্রা আরও বৃদ্ধি করবে তেমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।