Calcutta High Court : চার বন্দির রহস্যমৃত্যুতে সিআইডিকে তদন্তভার – calcutta high court directs cid probe into mysterious death of four inmates at baruipur correctional facility


এই সময়, কলকাতা ও বারুইপুর: বারুইপুর সংশোধনাগারে গত বছর জুলাই-অগস্টে মাত্র ন’দিনে চার বন্দির রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় অবিলম্বে সিআইডিকে তদন্ত হস্তান্তরের জন্যে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি ওই চার মৃত্যু নিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের রিপোর্ট এবং এতদিনে পুলিশ কী পদক্ষেপ করেছে–সেই রিপোর্টও আগামী ১৯ জুন আদালতে পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ। ওই দিন সিআইডিকেও তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে হবে। ভবিষ্যতে সিবিআই তদন্তের সুযোগ রাখতে তাদেরও মামলায় পক্ষ করার অনুমতি দিয়েছে আদালত।

মামলাকারী মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর অভিযোগ, গত বছর ২৪ জুলাই কুড়ালি গ্রামের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আব্দুর রেজ্জাক দেওয়ানকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বারুইপুর থানার পুলিশ। পরের দিন আদালতে হাজির করে জেলে পাঠানো হয়। পুলিশ মারফৎ আব্দুর অসুস্থ জেনে ৩০ তারিখ বারুইপুর হাসপাতালে গিয়ে বাড়ির লোক দেখেন, বছর চৌত্রিশের যুবক মারা গিয়েছেন। গায়ে অজস্র কালশিটে। মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এসেছে।

Calcutta High Court : ভুয়ো মাদক মামলায় ফাঁসানোয় দু’লাখ জরিমানা পুলিশকে
২৫ জুলাই আবার ঘুটিয়ারি সুভাষপল্লির অটো-চালক জিয়াউল লস্করকে পুলিশ মারতে মারতে ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। জিয়াউলেরও জেল হেফাজত হয়। ২ অগস্ট বাড়ির লোক খবর পান, জিয়াউল ‘অসুস্থ’। বারুইপুর হাসপাতালে গিয়ে দেখেন পড়ে রয়েছে লাশ। তাঁর দেহেও আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন।

আবার ২৫ জুলাই রাতে সন্তোষপুরের সাইদুল মুন্সীকে ধরে নিয়ে যায় মহেশতলা থানার পুলিশ। জেলে থাকাকালীন তাঁকেও বারুইপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২ অগস্ট মারা যান বছর ৩৪-এর যুবক। তাঁর শরীরেও মারের চিহ্ন ছিল বলে দাবি পরিবারের। বিষ্ণুপুর থানার আমতলার আকবর খানও জেল থেকে বারুইপুর হাসপাতালে এসেছিলেন গুরুতর আঘাত নিয়ে। মারা যান ২ তারিখেই।

একাধিক থানা এই চার জনের গ্রেপ্তারে যুক্ত থাকলেও সব ক্ষেত্রেই অভিযোগ দায়ের হয়েছিল ‘ডাকাতির প্রস্তুতি’র। পরিজনেদের অভিযোগ, মিথ্যে মামলায় গ্রেফতারের পরে থানায় এবং জেলা চলে প্রবল মারধর। তার জেরেই মৃত্যু। চার বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে দায়ের জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার এপিডিআরের তরফে আইনজীবী কৌশিক গুপ্ত ও শ্রীময়ী মুখোপাধ্যায় অন্তত দু’জনের দেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তুলে দেখান, এক জনের শরীরে ২৬টি এবং আর এক জনের শরীরে ৩৯টি আঘাতের কথা লিখেছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকও।

Saokat Molla : ‘খুনের পরিকল্পনা ছিল…’, ভাঙড়ের ঘটনায় ISF-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শওকত
অত্যাচারেই যে মৃত্যু, ময়নাতদন্তেও স্পষ্ট। পরিজনের মুখ বন্ধে তড়িঘড়ি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলাশাসকের দপ্তরে ডেকে ক্ষতিপূরণে কিছু টাকাও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান আইনজীবীরা। পুরো ঘটনায় সত্য আড়ালের চেষ্টা রয়েছে, নিগ্রহকারী পুলিশ, কারকর্মীদের চিহ্নিত করে সাজার ব্যবস্থা বা কোনও তদন্তই আদৌ হয়নি বলে দাবি করেন আইনজীবীরা।

পুলিশি তদন্তের কী অগ্রগতি, আদালতের প্রশ্নে তা বিশদে জানাতে পারেননি সরকারপক্ষের কৌঁসুলি। অসন্তুষ্ট আদালত অবিলম্বে সিআইডিকে তদন্ত হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশের পর তিন সন্তানকে নিয়ে প্রবল সমস্যায় থাকা জিয়াউলের স্ত্রী মারুফা বলেন, “এতদিনেও জানতে পারিনি, কাদের জন্যে স্বামীকে হারাতে হলো। আশা করি, এ বার সত্যি সামনে আসবে।” তাঁকে এবং আব্দুর রেজ্জাকের স্ত্রী সোহানাকে অবশ্য কিছু দিন হলো বারুইপুর এসপি অফিসে হোমগার্ডের কাজ দেওয়া হয়েছে।

Calcutta High Court : ‘এটা কি ছেলেখেলা চলছে?’, আদালতের নির্দেশ না মানায় পুলিশের ‘ঔদ্ধত্বে’ বিরক্ত হাইকোর্ট
এরই মধ্যে কয়েক দিন আগে নরেন্দ্রপুর থানায় পুলিশ হেফাজতে সুরজিৎ ওরফে সাহেব সর্দারের মৃত্যু হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে মঙ্গলবার গড়িয়ায় কংগ্রেসের প্রতিবাদ সভায় সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন সুরজিতের পরিবারের সদস্যরাও।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *