Cattle Smuggling Case : ৪ শুল্ক অফিসের সাঁটেই ​​গোরু এনামুলের গোয়ালে! – some customs officials are also under the ed watch for cow smuggling


এই সময়: গোরু পাচারে বিএসএফের একাংশ তো বটেই, শুল্ক বিভাগের কয়েকজন আধিকারিকও রয়েছেন ইডির আতসকাচের তলায়। এই মামলায় ক’দিন আগে দিল্লির রাউজ় অ্যাভিনিউ কোর্টে যে চার্জশিট বা প্রসিকিউশন কমপ্লেন্ট জমা দিয়েছে ইডি–সেখানে শুল্ক বিভাগের চারটি অফিসের কথা আলাদা ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Cattle Smuggling Case : CID-র সিল করা রাইস মিল থেকে চাল চুরি! দুবাই থেকে ‘অপারেশন’ এনামুলের ভাগ্নের!
তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৫ সাল থেকে লালগোলা, ডোমকল, জঙ্গিপুর ও ঔরঙ্গাবাদ শুল্ক অফিসকে পুরোদস্তুর হাত করেছিলেন গোরু পাচারে অন্যতম অভিযুক্ত এনামুল হক ও তাঁর সঙ্গী জাহাঙ্গির আলম ওরফে মন্টু হাজি, মেহেদি হাসান ওরফে ওন্টু হাজি এবং হুমায়ুন কবির ওরফে পিন্টু হাজি। মুর্শিদাবাদে এই তিন ভাই ‘জেএইচএম ব্রাদার্স’ নামে পরিচিত ছিলেন। ইতিমধ্যে এনামুল গ্রেপ্তার হয়েছেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির তিহার জেলেই রয়েছেন। তবে জেএইচএম ব্রাদার্স এখনও ভাগলবা!

Cow smuggling case: তিহাড়েই রোজা পালন, হাজিরা নিয়ে বিশেষ আর্জি এনামুল ও অনুব্রত দেহরক্ষীর
ঠিক কীভাবে শুল্ক বিভাগকে হাত করেছিলেন এনামুলরা?
চার্জশিটে ইডির দাবি, নিলাম করে গোরু আশপাশের গ্রামে বিক্রি করে যে দাম মিলত, তার থেকে গোরু বাংলাদেশে পাচার করতে পারলে অনেক বেশি মুনাফা হয়। সেই কারণেই শুল্ক বিভাগের এই চারটি অফিসের কর্মী-আধিকারিকদের একাংশ হাত মিলিয়েছিলেন এনামুল ও জেএইচএম ব্রাদার্সের সঙ্গে। সীমান্তে পাচারের সময়ে যেসব গোরু ধরা পড়ত, তাদের নাম-কা-ওয়াস্তে নিলামে তুলত শুল্ক বিভাগ।

CID Investigation : চার্জশিটে নাম উঠল এনামুলের ৩ ভাগ্নের
পাচারকারীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে সেগুলি আবার এনামুলদের হাতেই তুলে দেওয়া হতো। বদলে শুল্ক বিভাগ ও বিএসএফের একাংশ মোটা কমিশন নিতেন। অঙ্কটা হলো এরকম–পাচার হচ্ছে, এই সন্দেহে সীমান্তে গোরু আটক করত বিএসএফ। কিন্তু পাচারের অভিযোগে কাউকে আটক করা হতো না। নিয়ম অনুযায়ী, গোরুর সাইজ অনুযায়ী দাম ঠিক করে তা নিলামে তোলার কথা। কিন্তু বড় গোরুকে ছোট গোরু দেখিয়ে দাম করে নিলামে তুলে সেই গোরু আবার এনামুল ও তাঁর শাগরেদদের হাতে তুলে দেওয়া হতো।

Tihar Jail: তিহার জেলে গিয়ে এনামুলকে জেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিআইডি
এরপর প্রতি গোরু পিছু ২০০০ টাকা নিতেন বিএসএফ জওয়ানদের একাংশ, ৫০০ টাকা করে নিতেন শুল্ক বিভাগের আধিকারিকদের একাংশ। আবার নিলামমূল্যের ১০ শতাংশ কমিশন পেত শুল্ক বিভাগ। এই রফার অঙ্কটা শুল্ক বিভাগের আধিকারিকদের একাংশের সঙ্গে সাঁট করে তৈরি করেছিলেন এনামুল ও জেএইচএম ব্রাদার্স। ওই গোরু আবার এনামুলদের হাতে চলে গেলে তা মোটা দামে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হতো।

এখনও পর্যন্ত এই গোরু পাচার মামলায় সরকারি আধিকারিক হিসাবে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএসএফের প্রাক্তন কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমার। আর কোনও আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে ইডির দাবি, লালগোলা, ডোমকল, জঙ্গিপুর ও ঔরঙ্গাবাদ–মুর্শিদাবাদের শুল্ক বিভাগের এই চারটি অফিসে পাচারের জাল বোনা হয়েছিল।

হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা পাচার! ED-র হাতে গ্রেফতার এনামুল হক
জেএইচএম ব্রাদার্স ধরা পড়লে শুল্ক বিভাগের এই অসাধু আধিকারিকদের পাকড়াও করা অনেকটা সহজ হতো। তবে তাঁরা অনেকদিন ধরেই ফেরার। গোরু পাচার সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় রাজ্য সিআইডি তদন্ত করেছিল। সেই সময়ে তারা জেএইচএম ব্রাদার্সের অনেকগুলি ঠিকানায় হানা দেয়। কিন্তু তাদের ধরা যায়নি।

ইডি সূত্রের খবর, মূলত বীরভূমের ইলামবাজার, হায়াতনগর, পাইকুর, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি, ওমরপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের ডালগোলা পশুরহাট থেকে গোরু কেনা হতো। হাট থেকে গোরু কেনার ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকতেন এনামুলের ঘনিষ্ঠ শেখ আব্দুল লতিফ। কেনার পর ট্রাকে করে গোরু চলে যেত মুর্শিদাবাদের ওমরপুরের একটি অফিসে।

এই অফিসটি ছিল এনামুল হক এবং জেএইচএম ভাইদের। সেখানে ট্রাক চালকদের একটি টোকেন দিয়ে নির্দেশ দেওয়া হতো, বাংলাদেশ সীমান্তে কে কোন জায়গায় গোরু নিয়ে যাবেন। ইডি-র দাবি, এর পরের দায়িত্বে সামলাতেন বিএসএফের ৩৬ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমার। তাঁর অধীনে থাকা খান্ডুয়া, নিমতিতা, গিরিয়া (বর্ডার আউট পোস্ট)-এর মাধ্যমে গোরুগুলি পাচার হতো।

গোটা কারবার চালাতে অনুব্রত মণ্ডলকে নজরানা দিতেন এনামুল হক। সে কারণে অনুব্রতর প্রাক্তন দেহরক্ষী সেহগল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এনামুল এবং লতিফ। আবার শুল্ক বিভাগকে হাতে রাখতেন জেএইচএম ভাইরা। এর পরেও কোনওভাবে পাচারের আগে গোরু ধরা পড়লেও মুশকিল আসানে ছিলেন শুল্ক দপ্তরের কর্তারা। সেখানে কমিশন দিলেই পাচারের গোরু আবার এনামুলদেরই হয়ে যেত। পরে সেগুলিও পাচার হতো বাংলাদেশে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *