Kolkata News : পরোপকারীকে হেনস্থা নয়, জারি সরকারি নির্দেশিকা – government guidelines issued not abuse a philanthropist


এই সময়: রাস্তায় পড়ে থাকা জখম ব্যক্তিকে দেখে অনেকেই চোখ ঘুরিয়ে চলে যান। কেউ কেউ পরোপকার করতে দৌড়ে যান, আহতকে পৌঁছে দেন নিকটবর্তী হাসপাতালে। কিন্তু পথচলতি সেই পরোপকারী ব্যক্তিই হাসপাতালে এসে এবং পরে পুলিশের কাছে নানা হয়রানির শিকার হন। নানা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে যান পরোপকারী মানুষটি। ফলে অনেকেই পরোপকার করতে গিয়েও পিছপা হন প্রশাসনিক ঝামেলার ভয়ে।

অথচ, আট বছর আগেই দেশের শীর্ষ আদালত এমন ব্যক্তিদের ‘গুড সামারিটান’ আখ্যা দিয়ে রায় দিয়েছিল, এই সব পরোপকারীদের কোনও হয়রানি করা চলবে না। বরং তাঁর কাজের প্রশংসা করতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ রয়ে গিয়েছে খাতায়কলমেই, অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবে মানা হয় না বলে অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্টের ২০১৫ সালের ওই নির্দেশ যাতে অক্ষরে অক্ষরে সকলে মানে, সেই মর্মে আরও এক বার পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার।

West Bengal Health Department : প্রসূতি, শিশুমৃত্যুতে গ্রামে বেসরকারি ক্ষেত্রেও নজর
সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালের পাশাপাশি রাজ্য ও জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা বড় করে ‘ডিসপ্লে’ করার জন্যে বুধবার আদেশনামা জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। তাতে বলা হয়েছে, হয়রান করার বদলে যেন গুড সামারিটানদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়।

Health Monitoring Information System : রাজ্যবাসীর রোগের খবর নখদর্পণে থাকবে রাজ্যের, উদ্যোগী স্বাস্থ্যভবন
পরোপকারী ওই সব ব্যক্তিদের প্রতি কেমন আচরণ কাম্য, তা নিয়ে আদেশনামায় গুচ্ছ নির্দেশিকার উল্লেখ করা হয়েছে। স্পষ্ট বলা হয়েছে, জখম ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে এলে গুড সামারিটানদের যেন তাঁর নাম-ধাম-ফোন নম্বর ইত্যাদি দিতে জোর করা না হয়। অনর্থক পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীনও যেন তাঁদের না হতে হয়।

Swasthya Sathi : বড় হাসপাতাল ছাড়া কেমো নয় স্বাস্থ্যসাথীতে
বলা হয়েছে, কেউ যদি ফোন করে রাস্তায় পড়ে থাকা গুরুতর আহতের খবর থানাকে দেন, তা হলে পুলিশ তাঁর পরিচয় জানতে চাইতে পারবে না। এমনকী, জখম কারও চিকিৎসা করার জন্যে পরোপকারী ব্যক্তির থেকে চিকিৎসা বাবদ টাকা চাইতে পারবে না বেসরকারি হাসপাতাল।

এই সব কথাই বড় করে ডিসপ্লে করতে হবে সব হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ও আউটডোরের সামনে। পাশাপাশি রাজ্য ও জাতীয় সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাতেও এই মর্মে ডিসপ্লে বোর্ড টাঙানোর কথা বলা হয়েছে। সরকারি স্তরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, স্বাস্থ‌্য দপ্তরের এই বিজ্ঞপ্তি পূর্ত ও পরিবহণ দপ্তরও ডিসপ্লে করবে বিভিন্ন জায়গায়। যদিও পুলিশি মহলের একাংশের বক্তব্য, গুড সামারিটানকে পুলিশ হেনস্থা করতে চায় না। অনেক সময়ে তদন্তের স্বার্থেই পরোপকারী ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা এবং তথ্য চাওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কথা বলতে না পারলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত ব্যাহত হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *