আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী বুলু চিকবড়াইকের মেয়ে ২০১৭ সালে প্রাথমিকে শিক্ষিকার চাকরি পান। বাড়ির পাশেই রাঙামাটি চা বাগানের প্রাথমিক স্কুলে হয় তাঁর পোস্টিং। মন্ত্রিকন্যার মেয়ের নাম সামনে আসাতেই চাঞ্চল্য এলাকায়। যদিও মন্ত্রী বুলু চিক বড়াইকের দাবি, ”আমার মেয়ে বরাবরই মেধাবী। পড়াশোনায় যথেষ্ট ভালো। প্রাথমিক শিক্ষিকা ছাড়াও আমার মেয়ে সুষমা দুইবার WBCS পরীক্ষা দিয়ে ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছেছিল।কিন্তু উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তাই ওঁর মেধা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু এখন আদালত যে নির্দেশ দেবেন সেটাই পালন করা হবে।”
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রশিক্ষণহীন ৩৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। তবে তাতে কিছু শর্তও রেখেছেন তিনি। যেমন বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী চার মাস তারা স্কুলে যেতে পারবেন তবে বেতন পারবেন প্যারা টিচারের হারে। পর্ষদকে আগামী তিন মাসের মধ্যে সমস্ত শূন্য পদে নিয়োগ সম্পূর্ণ করতে নির্দেশ বিচারপতির। আদালত প্রদত্ত শর্ত পূরণ করতে না পারলে চাকরি ফেরত পাবেন না বাতিল শিক্ষক শিক্ষিকারা।
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি প্যান্ডোরাবক্স খুলেছিল প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি বাতিল দিয়েই। SSC শিক্ষক নিয়োগে বেনিয়মের অভিযোগে চাকরি যায় মন্ত্রিকন্যার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০১৬ সালের এসএসসি নবম দশম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্যানেলে অনেক পিছনে নাম থাকা সত্ত্বেও কারচুপি করে ১-এ চলে আসে তাঁর নাম। এর ফলে চাকরি পান প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তে সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় মন্ত্রী কন্যা অঙ্কিতার চাকরি বাতিল হয় এবং তাঁকে এত বছর শিক্ষিকা পদে চাকরি করে পাওয়া বেতনও আদালতে জমা দিতে হয়। আবারও নিয়োগ দুর্নীতিতে আরও এক মন্ত্রিকন্যার নাম জড়ানোয় চাঞ্চল্য রাজ্য রাজনীতিতে।
