চম্পক দত্ত: ডাইন অপবাদ দিয়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে বেধড়ক মারধর। প্রতিবেশীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হল সপরিবারে। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মেলেনি সুরাহা এমনই অভিযোগ। ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণা এক নম্বর ব্লকের লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জগন্নাথপুর গ্রামের।
জানা যায় জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই বৃ্দ্ধ দম্পতির ছেলেপুলে নিয়ে ভরা সংসার। কিছুদিন আগে প্রত্যেক বছরের ন্যায় এবছরও গ্রামে শালিক পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেই শালিক পুজো থেকেই এলাকার মাতব্বরেরা নিদান দেয় ওই বৃদ্ধ দম্পতি ডাইন। আর একথা বলার পরই ওই বৃদ্ধ দম্পতির উপর লাঠি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্রামের বেশ কয়েকজন মাতব্বর। ব্যাপক পরিমাণে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। কোনওরকমে পালিয়ে রক্ষা পায় ওই বৃদ্ধ। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে ঘাটাল হাসপাতালে ভর্তি করে।
এই ঘটনায় ওই বৃদ্ধের পাঁজর ভেঙে গিয়েছে। এমনই অভিযোগ তাঁর ছেলের। শেষমেশ প্রাণভয়ে ওই বৃদ্ধকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন আত্মীয়দের বাড়িতে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। আরও অভিযোগ, পুরো ঘটনার কথা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েও মেলেনি সুরাহা। ছেলের অভিযোগ, একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনও সুরাহা হয়নি। গ্রামের কেউ এব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ। তবে বিষয়টি স্বীকার করেন নিয়েছেন আদিবাসী সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল নেতারাও।
এবিষয়ে চন্দ্রকোণা ১ নম্বর ব্লকের বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। পুলিস প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।’ অপরদিকে এই কুসংস্কারের গেরোয় বসতভিটে ছেড়ে আত্মগোপন করতে হচ্ছে অসহায় পরিবারকে। এখন দেখার প্রশাসন কবে এই কুসংস্কারকারী মাতব্বরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয় ও ওই বৃদ্ধ দম্পতি সুস্থভাবে বাড়ি ফিরে আসতে পারেন।
আরও পড়ুন, দেশের সেরা ধূপগুড়ি, সর্বোচ্চ ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গল পুরস্কার পাচ্ছে ঘরের মেয়ে!
