বছর খানেক আগে প্রেমিক সুশান্ত চৌধুরীর হাতে বহরমপুর কলেজের ছাত্রী সুতপা খুনের নৃশংস ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। দিঘড়ি গ্রামে সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হতে চলেছিল। শনিবার সন্ধ্যায় কিশোরীর বাড়িতে সোজা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হাজির হয় প্রেমিক জেকারুল ইসলাম। তার দুই সাগরেদ বাইরে মোটরবাইক নিয়ে অপেক্ষায় ছিল। সশস্ত্র জেকারুল ওই কিশোরীর নাম ধরে ডাকাডাকি শুরু করে।
ঠিক সেই সময় কিশোরীর কাকা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুবকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আগ্নেয়াস্ত্রটি কেড়ে নেন। চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে জেকারুলকে পাকড়াও করে বিদ্যুতের খুঁটিতে বাঁধেন। এর পর চলে গণধোলাই। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে জেকারুলকে উদ্ধার করে সামশেরগঞ্জ ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কিশোরীর কাকা বলেন, ‘আমি দোকান থেকে বাড়ি ঢুকছিলাম। হঠাৎ দেখি বাড়ির সামনে দু’জন যুবক বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর একজন বাড়ির ভিতরে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চিৎকার করছে। আমি ছুটে গিয়ে ওর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্রটা কেড়ে নিই।’
বছর দুয়েক আগে সমাজমাধ্যমে ওই কিশোরীর সঙ্গে পরিচয় হয় জেকারুলের। পেশায় বিড়ি শ্রমিক জেকারুল বিবাহিত। তার চার সন্তানও রয়েছে। কিন্তু সে কথা কিশোরীকে জানায়নি সে। কিছু দিন পর কিশোরী সে কথা জানতে পেরে সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চায়। কিশোরীর বাবা বলেন, ‘জেকারুল ফোন করে উত্যক্ত করত। সামশেরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করায় কিছু দিন চুপ থাকলেও ফের ফোন করে হুমকি দিচ্ছিল মেয়েকে। আজ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়ে।’
