উল্লেখ্য, কুড়মি জনজাতিকে তফশিলি উপজাতি তালিকাভুক্ত করার দাবিতে বারবার আন্দোলনে নেমেছে কুড়মি জনজাতির মানুষের। অবিলম্বে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের তরফে সিআরআই রিপোর্টের ওপর কমেন্ট এবং জাস্টিফিকেশন পাঠানোর দাবিতে রেল অবরোধ, জাতীয় সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি নিয়েছে কুড়মি সমাজের মানুষেরা।
এরপর পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক শিবিরের সম্মুখ সমরে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কুড়মিরা। যদিও জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর অজিত মাইতি দাবি করে বলেছেন, “কুড়মিদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী একগুচ্ছ প্রকল্প নিয়েছেন। জঙ্গলমহলে শাসকের পাশে সব থেকে বেশি দাঁড়াবে কুড়মি সমাজের মানুষেরাই”।
যদিও কুড়মিদের থেকে উলটো সুর শোনা যাচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের স্থানীয় এক কুড়মি নেতা জানান, “তৃণমূলকে সমর্থন করার কোনও প্রশ্নই নেই। বিনা দোষে, বিনা বিচারে আমাদের নেতাদের তাঁরা জেলবন্দি করে রেখেছে। যেখানে আমাদের নেতা কর্মীদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার সঙ্গে কোনও যোগ নেই।
একথা অভিষেক নিজে মুখে জানিয়েছেন। তাহলে এই ধরনের অন্যায় কেন করা হচ্ছে, সেই জবাব তৃণমূলকে দিতে হবে। তাই আমরা এবার ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার তৃণমূল জবাব পাবে আমাদের থেকে”। এদিকে, কুড়মি সমাজের এই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে মাঠে নেমে পড়েছে বিরোধী দলগুলিও।
জঙ্গলমহলে কুড়মি আন্দোলন চলছেই। এরই মধ্যে পুরুলিয়া জেলা পরিষদে ৪৫টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে কুড়মি নেতাদের প্রার্থী করেছে বামফ্রণ্ট। কুড়মি জনজাতির ভোট টানতে এই সিদ্ধান্ত বলে ব্যাখ্যা রাজনৈতিক মহলের। কুড়মিদের ‘ঘাঘর ঘেরা কেন্দ্রীয় কমিটি’ জানিয়েছে, তৃণমূলকে একটি ভোটও নয়।
ঘাঘর ঘেরা কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা, কুড়মি প্রতিনিধিরা নির্দল হিসাবে লড়বেন। এতে বোঝাই যাচ্ছে তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। পালটা রণকৌশল হিসাবে পঞ্চায়েত ভোটে কী করবে শাসক দল, তা নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে দলের মধ্যে।
