সেই হিসেবেই এই এলাকাকে পাখির চোখ করেছে রাজ্যের শাসকদল। সূত্রের খবর, এই মাসের ২৫ থেকে ২৭ তারিখ জলপাইগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রচার করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৭ তারিখ মালবাজারে জনসভা রয়েছে তাঁর। মঙ্গলবারই তিনি জলপাইগুড়ি থেকে কলকাতা ফিরে আসবেন বলে খবর। তারপর একে একে বিভিন্ন জেলা ধরে সেই প্রচার এগিয়ে আসবে রাজ্যের দক্ষিণ ভাগে। বলা যায়, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় তৃণমূলের শক্তি অনেক কমে গিয়েছে। তা নিয়ে যে শাসকদলের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে, তা স্পষ্ট। তৃণমূলের অনেকেরই বক্তব্য, নব জোয়ার যাত্রার মাধ্যমে অনেক ক্ষতেই প্রলেপ পড়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা যেমন মালদা, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ইত্যাদিতে শাসকদলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ বারবার নজরে এসেছে। যা পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন থেকে প্রত্যাহার পর্বে ক্রমশই তীব্র হয়েছে। বহু জায়গায় নির্দল প্রার্থী রয়েছেন। এসব কাঁটা নিয়েই ভোটে লড়তে হচ্ছে তৃণমূলকে।
সূত্রের খবর, প্রচারে নেমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিতে চাইবেন, জোড়া ফুলের টিকিট পেয়েছেন যাঁরা, তাঁরা আসলে তাঁরই মনোনীত প্রার্থী। ফলে ভোটটা যেন জনগণ তৃণমূলের প্রার্থীকেই দেন। রাজ্য সরকার প্রভূত উন্নয়ন করেছে। কিন্তু শুধু বিভাজনের রাজনীতি করে এই অঞ্চলগুলিতে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করছে BJP।
লাগাতার চলছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, এমনই মত তৃণমূল নেতা কর্মীদের। এই আবহে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং প্রচারে নামছেন জেনে উজ্জীবিত দলের নেতা-কর্মীরা। এছাড়াও তৃণমূল নেত্রী প্রচারে যেতে পারেন জঙ্গলমহলেও। উত্তরবঙ্গের মতোই জঙ্গলমহলে দুর্বল অবস্থা তৃণমূলের।
সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কুড়মিদের লাগাতার আন্দোলন। সেই কারণে ভোটের আগে কিছুটা ব্যাকফুটে তৃণমূল। যেই কারণে জঙ্গলমহলকে আলাদা নজরে দেখছেন তৃণমূল নেত্রী। সেখানে গিয়ে কুড়মিদের প্রতি তিনি কি বার্তা দেন, সেই নিয়েই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সকলে।
