Presidency University : নীতি পুলিশির প্রতিবাদে ছাত্রীকে নিগ্রহের অভিযোগ – the students of presidency university raised allegations of physical abuse against the authorities


এই সময়: নীতি পুলিশির অভিযোগ ছিলই, এবার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগেও সরব হলেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের হাতে আহত হতে হয়েছে তাঁদের। যা নিয়ে আন্দেলনের সুর আরও চড়ে সোমবার। এ দিন সকাল থেকেই স্লোগানে, গানে-কবিতায় প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ক্যাম্পাস। সন্ধ্যার দিকে কর্তৃপক্ষ মৌখিক ভাবে পড়ুয়াদের জানান, প্রস্তাবিত ‘কোড অফ কনডাক্ট’ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা হচ্ছে। আন্দোলন থেকে না সরলেও পড়ুয়ারা একে প্রাথমিক জয় হিসেবেই দেখছেন। যদিও আজ, মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে জরুরি ভিত্তিতে সাধারণ সভার ডাক দিয়েছেন পড়ুয়ারা।

Presidency University : মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক, তা হলে আমাকে ডাকছেন কেন?
কয়েক দিন ধরেই নীতি পুলিশি চালানো, প্রেম করলে ধরপাকড়, পেন ড্রাইভে পড়ুয়াদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ সেভ করে রাখা-সহ নানা অভিযোগে উত্তপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সোমবার পড়ুয়াদের বিক্ষোভ চরমে পৌঁছয় মেয়েদের হস্টেলে নীতি পুলিশি চালানোর অভিযোগে। দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি কমিটির বৈঠক বসে এ দিন।

Presidency University : প্রেমের পথে ‘কাঁটা’ প্রেসিডেন্সি, ডাকা হচ্ছে অভিভাবকদের! কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
ওই দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে হস্টেল সুপার অভিযোগ এনেছেন, তাঁরা রাতে ছেলে সহপাঠীদের হস্টেলে নিয়ে এসেছিলেন। ছাত্রীদের পাল্টা বক্তব্য, সম্প্রতি হস্টেল থেকে বাড়ি ফেরার জন্য গভীর রাতে ট্রেন ছিল তাঁদের। সেই কারণে তাঁরা দুই ছাত্র সহপাঠীর সাহায্য চান। দুই অভিযুক্ত ছাত্রীর একজন পারফর্মিং আর্টসের অঙ্কিতা সরকার। তাঁর কথায়, ‘অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে আমাদের ওই দুই বন্ধু হস্টেলের একেবারে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। এই অপরাধে আমাদের বাড়িতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমনকী আমাদের নামে রটানো হচ্ছে, আমরা নাকি হস্টেলে ছেলে ঢোকাচ্ছি।’

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠক চলাকালীন বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন পড়ুয়ারা। সেই সময়ে মেয়েদের হস্টেল সুপার তথা প্রেসিডেন্সিরই অধ্যাপক পারমিতা সাহার সঙ্গে কথা বলতে যান পড়ুয়ারা। এক ছাত্র ওই কথোপকথনের ভিডিয়ো রেকর্ডিং করছিলেন। অভিযোগ, তখন পারমিতা ওই ছাত্রের ক্যামেরা কেড়ে নিতে যান এবং তখনই অভিনন্দা ঘটক নামে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক ছাত্রীকে আহত করেন তিনি। এই ঘটনায় পারমিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

Online Learning Apps : বাড়িতে স্টুডেন্ট আছে? দুয়ারে হাজির ‘এডুকেশন সেলসম্যান’!
অভিনন্দার কথায়, ‘আমরা প্রতিবাদ করছিলাম। ম্যামের থেকে জানতে চাই, কেন তাঁরা এ ভাবে নীতি পুলিশি চালাচ্ছেন। সে সময়ে তিনি ক্যামেরা কাড়তে যান এবং আমার নাকে আঘাত করেন।’ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য পারমিতাকে ফোন করা হয়। ‘এই সময়’-এর কথা শুনে তিনি ‘হ্যালো হ্যালো…শুনতে পাচ্ছি না..’ বলে ফোন কেটে দেন। তারপর আর ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর কাছে প্রশ্ন পাঠিয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়। ওই মেসেজ ব্লু-টিক হলেও কোনও জবাব দেননি।

Tripura University : পরীক্ষা চলাকালীন ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঞ্চল্য
এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন রেজিস্ট্রার, ডিন অফ স্টুডেন্টসও। ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, অনুমতি ছাড়া কেন পারমিতার সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিয়ো রেকর্ডিং করছিলেন পড়ুয়ারা? যদিও পড়ুয়াদের পাল্টা কটাক্ষ, ‘ছাত্রছাত্রীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত যখন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে কেটে পেন ড্রাইভে সেভ করেন রাখেন কর্তৃপক্ষ, তখন অনুমতির কথা তাঁদের কি মাথায় থাকে?’

Jadavpur University: পিএইচডি করতে চান? আর্টসের বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি চলছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে
এ দিকে এ দিন একই সঙ্গে প্রায় সমস্ত সংগঠনই নীতি পুলিশি ও প্রস্তাবিত কোড অফ কনডাক্টের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে নামে। ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভ করে ডিএসও। তার আগে প্রেসিডেন্সির দেওয়াল জুড়ে ভালোবাসার গান, কবিতা লেখেন পড়ুয়ারা। কর্তৃপক্ষের অফিসের বাইরে ‘দালাল’ লিখে দেওয়া হয়। ভালোবাসার গান গাইতে গাইতে অভিযুক্ত ডিনের হাতে গোলাপের তোড়া তুলে দেন পড়ুয়ারা। ভিতরে-বাইরে যৌথ চাপের মুখে সন্ধ্যায় পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করেন ডিন অফ স্টুডেন্টস অরুণ মাইতি। পরে এসএফআই নেতা ঋষভ সাহার দাবি, ‘লাগাতার আন্দোলনের চাপে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কোড অফ কনডাক্ট এখনই কার্যকর হচ্ছে না।’ আইসির তরফে অহন কর্মকারের বক্তব্য, ‘কোড অফ কনডাক্ট পুরোপুরি প্রত্যাহার করা এবং যাঁদের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি কমিটি বসানো হয়েছিল, তাঁদের বিনা শর্তে ছাড় না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *