জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতে আসন্ন বিশ্বকাপ (ICC ODI World Cup 2023) খেলতে না এলে ফল ভুগতে হবে। সরাসরি না বলেও পাক ক্রিকেট বোর্ডকে (PCB) বুঝিয়ে দিল আইসিসি (ICC)। পাক বোর্ডের উদ্দেশে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। এদিকে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের কর্তা ও প্রশাসনের মাথায় থাকা কর্তাদের দিকে আঙুল তুলে দিলেন ওয়াসিম আক্রম (Wasim Akram)। ফলে কাপ যুদ্ধে অংশ নেওয়ার টালবাহানা দেখানোর জন্য এবার বেজায় সমস্যায় পাকিস্তান (Pakistan)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিসি-র এক কর্তা বলেছেন, “টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করার চুক্তিতে তারা সই করেছে। তাই আমাদের আশা, পাকিস্তান বিশ্বকাপে থাকবে।” এরপর আইসিসি-র কর্তা ফের বলেছেন, “পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেছে। তারপর বিশ্বকাপ না খেলার ব্যাপারে পাক বোর্ডের তরফ থেকে আর কোনও বার্তা পাওয়া যায় নি। সবাইকেই নিজ নিজ দেশের আইন মানতে হয়। কিন্তু পাকিস্তান যে ভারতে খেলতে চায় না, এমন কোনও বক্তব্য এখনও শোনা যায়নি।” ওয়াকিবহাল মহল বলছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের প্রাথমিক চুক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে আসলে ঘুরিয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিল আইসিসি।
এদিকে পাক বোর্ডের দিকে আঙুল তুলে দিয়েছেন ‘সুলতান অফ সুইং’। তিনি বলেছেন, “সূচি নিয়ে আলোচনা করা উচিত নয়। যেখানে ম্যাচ দেওয়া হয়েছে সেখানেই খেলতে হবে। ব্যস আলোচনা শেষ। পাক বোর্ডের কর্তারা অহেতুক জলঘোলা করছে।” আক্রম ফের ক্ষোভের সঙ্গে ফের যোগ করেছেন, “পাক বোর্ডের কথায় কান দিয়ে লাভ নেই। বরং একবার এই ইস্যু নিয়ে বাবর আজম ও বাকি ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে দেখুন, ওরা বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে আছে। সেটা আহমেদাবাদ হোক কিংবা ইডেন গার্ডেন্স।”
আরও পড়ুন: Durga Puja And ICC World Cup 2023: দুর্গাপুজোর সঙ্গে ক্রিকেটের ককটেল! ওভারডোজের অপেক্ষায় বঙ্গ সমাজ
আগামী ৬ অক্টোবর হায়দরাবাদে (Hyderabad) রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পাকিস্তান। পাক দলের মুখোমুখি কোয়ালিফায়ার ওয়ান। ১২ অক্টোবর সেই একই ভেন্যুতে খেলবেন মহম্মদ রিজওয়ানরা (Mohammad Rizwan)। এরপরেই আয়োজিত হবে কাপ যুদ্ধের মেগা ম্যাচ। ১৫ অক্টোবর আহমেদাবাদের (Ahmedabad) নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের (Narendra Modi Stadium) বাইশ গজে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান (IND vs PAK)। সেই মহারণ শেষ হলে পাক দল চলে আসবে বেঙ্গালুরুতে। ২০ অক্টোবর শাহিন শাহ আফ্রিদিদের বিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। ২২ ও ২৭ অক্টোবর পাকিস্তান যথাক্রমে আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ের বাইশ গজে খেলবে। সেই দুটি ম্যাচ খেলে পাক দল কলকাতায় পা রাখবে। ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেন্সে নামবে পাক দল। পরের ম্যাচ ৪ নভেম্বর। এবার প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড। ভেন্যু বেঙ্গালুরু। সেই ম্যাচ খেলে আবার কলকাতায় ফিরে আসবেন বাবর আজমরা। ১২ নভেম্বর ক্রিকেটের নন্দন কাননে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
তবে কাপ যুদ্ধের সূচি সামনে চলে এলেও পিসিবি-র তরফ থেকে এখনও সবুজ-সঙ্কেত দেওয়া হয়নি। আর এতেই বেজায় চটেছেন আক্রম। তিনি ফের বলেছেন, “সবাই বড্ড ইগো দেখাচ্ছে। কিন্তু এটা ইগো দেখানোর সময় নয়। বরং রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে শুধু বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত।”
এদিকে আইসিসি ঘোষণা করে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপের দু’টি সেমিফাইনাল হবে মুম্বই ও কলকাতায়। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে পয়েন্ট টেবলের এক ও চার নম্বর দলের বিরুদ্ধে শেষ চারের লড়াই হবে। দুই এবং তিন নম্বর দলের দ্বিতীয় সেমি ফাইনাল হবে ইডেনে। আইসিসি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে যে, পাকিস্তান যদি সেমি ফাইনালে কোয়ালিফাই করে যায়, তাহলে তারা কলকাতাতেই খেলবে, রাউন্ড-রবিন গ্রুপ পর্যায়ের শেষে তাদের অবস্থান যাই থাকুক না কেন! ভারত যদি শেষ চারে ওঠে, তাহলে তারা মুম্বইতে খেলবে, যদি না তারা পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়, তবে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা পড়লে, তাহলে ইডেনই দেখবে ভারত বনাম পাক সেমি ফাইনালের মহারণ। ১৬ নভেম্বর দ্বিতীয় সেমি ফাইনালের আসর বসবে ইডেনে। এর আগে, ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কার সেমি ফাইনাল আয়োজিত হয়েছিল ক্রিকেটের নন্দন কাননে।
তবে এর আগে পাকিস্তানের ভেন্যুগুলি দেখার জন্য পাক প্রতিনিধিদল এসে পৌঁছবে এই দেশে। অগাস্টের শেষের দিকে পাক প্রতিনিধি দল আসবে ভারতে। বিশ্বকাপে হায়দরাবাদ, আহমেদাবাদ, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতার মতো কেন্দ্রে ম্যাচ পড়েছে পাকিস্তানের। সেই সব কেন্দ্রগুলি খতিয়ে দেখার জন্যই পাক প্রতিনিধি দল আসবে ভারতে। ম্যাচ কেন্দ্রগুলির ভেন্যু খতিয়ে দেখার পরে সেই প্রতিনিধি দল একটি রিপোর্ট পেশ করবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে স্থির করা হবে, বাবর আজম-শাহিন আফ্রিদিরা আহমেদাবাদে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবেন কিনা।
একনজরে দেখে নিন বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ—
৬ অক্টোবর কোয়ালিফায়ার ১ (হায়দরাবাদ)
১২ অক্টোবর কোয়ালিফায়ার ২ (হায়দরাবাদ)
১৫ অক্টোবর ভারত (আহমেদাবাদ)
২০ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া (বেঙ্গালুরু)
২২ অক্টোবর আফগানিস্তান (চেন্নাই)
২৭ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকা (চেন্নাই)
৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ (কলকাতা)
৪ নভেম্বর নিউ জিল্যান্ড (বেঙ্গালুরু)
১২ নভেম্বর ইংল্যান্ড (কলকাতা)
