মূলত, রোগীদের নির্দিষ্ট রোগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রোগের রেকর্ড রাখার জন্য, সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য কি চিকিৎসার ব্যাবস্থা হয়েছে, কী ধরনের ওষুধ ব্যবসার করা হয়েছে, সেই সমস্ত রেকর্ড রাখার জন্য এই ই প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
সেইমতো, গত দুমাস ধরে ধাপে ধাপে রাজ্যের প্রান্তিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে ই-প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা চালু করার ব্যবস্থা করা হয়। জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকেই রাজ্যের ১৭৪টি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ই প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা শুরু করা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সব বিভাগেই এই ই-প্রেসক্রিপশন চালু এখনই করা না গেলেও অন্ততপক্ষে ৫০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নতুন সিস্টেম চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রেসক্রিপশনে লেখা হলে সেটা প্রতিটি ডাক্তারি পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শই সহজবোধ্য হবে তো বটেই, পাশাপাশি সব রোগীর অসুস্থতার তথ্যাবলিও সহজে সংরক্ষিত হবে স্বাস্থ্য দফতরের ইন্টিগ্রেটেডে হেলথ মনিটরিং সিস্টেমের কেন্দ্রীয় সার্ভারে। পরবর্তীতে তা ‘অ্যাকসেস’ করা যাবে যে কোনও সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে। এই ইন্টিগ্রেটেড ব্যবস্থার সুবিধা উপভোগ করা যাবে গোটা রাজ্য থেকেই।
বর্তমানে ১৭৪টি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই ব্যবস্থা চালু করা হলেও আগামী দিনে রাজ্যের ৯১৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের সব জেলা, মহকুমা, স্টেট জেনারেল ও সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালের ৫০% বিভাগে এই ব্যবস্থা চালু করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত মে মাসেই রাজ্যের সমস্ত জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। তবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার, প্রিন্টার সহ অন্যান্য মেশিন পাঠানোর ব্যবস্থা হলেও এখনও অনেক জায়গায় ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের ব্যবস্থা হয়নি। সেই কারণে কিছুটা দুর্ভোগ পোয়াতে হতে পারে বলে ধারণা অনেকের।
