Ilish Fish : কোথায় গেল সেই টেস্ট, এ ইলিশ কেমন ইলিশ! – the import of fresh hilsa has started in the market but buyers are not getting the proper taste


তাপস প্রামাণিক
সে এক সময় ছিল বটে। কড়াইয়ে বর্ষার টাটকা ইলিশ। সামান্য সর্ষের তেলে কাঁচা ইলিশের টুকরো ছাড়লেই বেরিয়ে আসত তেল। আশপাশের পাঁচটা বাড়ি সে গন্ধেই মাত! তেল-লেজা দিয়ে গরম ভাত, অতঃপর হয় বেগুন-কাঁচালঙ্কা-কালো জিরে দিয়ে ঝোল, নয় পোস্ত-সর্ষে-নারকেল দিয়ে ভাপে, কারও পাতে দই-ইলিশ। বঙ্গসন্তান আহ্লাদে আটখানা।

Ilish Fish Market : বিরাট সুখবর! কাকদ্বীপ-নামখানা-বকখালি-সাগরে জালে উঠল টন টন ইলিশ
সুখের সে চাবি বুঝি হারিয়েই গেল। কোথায় সেই ইলিশ, কোথায় বা সেই স্বাদ-গন্ধ। বাজারে টাটকা ইলিশ আসতে শুরু করেছে। দামও সাংঘাতিক কিছু নয়। কিন্তু সে ইলিশ মুখে তুলেই হাপিত্যেশ শুরু। এ যেন নামেই ইলিশ। সার্ভে পার্ক এলাকার বাসিন্দা, কেন্দ্রীয় সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী তমাল চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘বর্ষার নতুন ইলিশ উঠেছে বলে অনেক শখ করে কিনে নিয়ে গেলাম। স্ত্রী তোয়াজ করে ভাপা ইলিশ বানিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাদই তো পেলাম না!’

Ilish Price: মাত্র 500 টাকাতেই কিনুন আস্ত ইলিশ! খুশির প্রাণ গড়ের মাঠ কলকাতাবাসীর
গত কয়েক বছর ধরেই এমনটা হচ্ছে। কিন্তু কেন? এক নয়, উঠে আসছে একাধিক কারণ। ন্যাশনাল ফিশারিজ় ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের প্রাক্তন এগজ়িকিউটিভ ডিরেক্টর মধুমিতা মুখোপাধ্যায়ের মতে, ইলিশের স্বাদ কমার পিছনে বিশ্ব উষ্ণায়ন অন্যতম বড় কারণ- ‘উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র ও নদীর জলের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে জলের যে টেম্পারেচার থাকার কথা, তার থেকে অনেক বেশি থাকছে।

Hilsa Price: ইলিশ, চিকেন নাকি মাটন! কোন জিনিসের দাম বাজারে কত?
ইলিশ-সহ সব মাছের জীবনচক্রে তার প্রভাব পড়ছে। কমছে টেস্ট।’ রাজ্য প্রাণী ও মৎস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ‘দ্য ডিরেক্টরেট অফ রিসার্চ, এক্সটেনশন অ্যান্ড ফার্মস’-এর সহ-অধিকর্তা বিমলকিঙ্কর চন্দ্রের ব্যাখ্যা, ‘নদীতে বাঁধ নির্মাণ এবং মাঝখানে চড়া পড়ে যাওয়ায় পাহাড়ের মিষ্টি জল আসছে না। উল্টোদিকে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ায় নদীতে বেশি করে নোনা জল ঢুকছে। লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। ইলিশ মিষ্টি জলে ঢুকলে তবেই টেস্টি হয়। এখন আর সেটা হচ্ছে না।’

Vegetable Price: যত দোষ টমেটো, কাঁচালঙ্কার! হু হু করে বাড়ছে অন্য সবজির দামও
মৎস্যবিজ্ঞানী অশোক পট্টনায়েক বলেন, ‘ডিম ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে নদীর দিকে আসার সময়ে খাওয়াদাওয়া বন্ধ রাখে ইলিশ। তাতে শরীরের সঞ্চিত ফ্যাট ভেঙে তেল তথা ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি হয়। সে জন্যই নদীর ইলিশ বেশি সুস্বাদু হয়। কিন্তু নানা কারণে বিভিন্ন নদ-নদীর জলের মিষ্টতা কমছে। নদীতে দূষণও বাড়ছে। তার জন্যই ইলিশের স্বাদ কমছে।’ তিনি জানান, কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হওয়ার পর থেকে ফ্লাইঅ্যাশের প্রভাবে রূপনারায়ণ নদীতে আগের মতো ইলিশ আসছে না। যে সব ইলিশ উঠছে তার স্বাদও অত্যন্ত খারাপ। আগে কলকাতার গঙ্গায় ইলিশ ধরা পড়ত। এখন আর সেটা দেখা যায় না।

সুন্দরবন মত্‍স্যজীবী শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক সতীনাথ পাত্রের কথায়, ‘কোয়ালিটি ঠিক রাখার জন্য বাংলাদেশে ছোট ইলিশ ধরা হয় না। ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করলে সেখানে জেল-জরিমানা হয়। আমাদের এখানে অত কড়াকড়ি নেই। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজন না হলে ইলিশ টেস্টি হয় না। কিন্তু আমাদের এখানে যে ইলিশ ধরা হয় তার গড় ওজন ৫০০-৬০০ গ্রাম। তাই স্বাদ ততটা ভালো হয় না।’

হিলসা সংস্থার প্রধান এবং মৎস্য ব্যবসায়ী অতুলচন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার দোকান থেকে অনেকে মেঘনা-পদ্মার ইলিশ কিনে নিয়ে যান। কিন্তু অনেকে বলেন, টেস্ট ভালো ছিল না। এখানকার মতো বাংলাদেশেও নদীর জল দূষিত হয়ে গিয়েছে। মিষ্টতা কমেছে। তাই ইলিশ আগের স্বাদ হারিয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *