ঠিক কী লেখা ওই দেওয়াল লিখনগুলিতে?
কথায় বলে ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রায় যায়’। তাই নির্বাচনী যুদ্ধে কারও প্রাণ যাতে না যায় তার জন্যই বিশেষ আবেদন রাখা হয়েছে ওই দেওয়াল লিখনগুলিতে। যে দেওয়াল লিখনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেটি পুরুলিয়ার। তাতে লেখা, ‘ভোট আসবে ভোট যাবে, আপনার প্রাণ গেলে আর ফিরবে না। নেতাবাবু কিন্তু সুখেই থাকবে, তাই ভোটের জন্য মারমারি করবেন না।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ের একটি দেওয়াল লিখনের ছবিও। সেখানে আবার প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই পোস্টে লেখা, ‘আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে কারও প্ররোচনায় প্রতিবেশীর সহিত দুর্ব্যবহার করিবেন না। নির্বাচন একদিন, প্রতিবেশী চিরদিন।’
পূর্ব মেদিনীপুরের শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের তৃণমূল প্রার্থী সন্তোষ ঘড়া। ৮৫ বছর বয়সেও ভোটের ময়দানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সন্তোষ। ভোটের প্রচারে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন সন্তোষ। সন্তোষবাবুর কথায় বয়সটা একটা সংখ্য়া মাত্র। নবীনদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভোটের ময়দানে ঝড় তুলেছেন সন্তোষ। ভোটে দাঁড়িয়ে বহুবার জয়ীও হয়েছেন সন্তোষ ঘড়া.
ছবিগুলি ইতিমধ্যেই প্রচুর ইউজার শেয়ার করেছেন। ছবিগুলি ভাইরাল হতেই ব্যাপক শোরগোল সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে। মূলত হিংসা থেকে বিরত থাকার কারণেই এই ধরনের দেওয়াল লিখনগুলি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করা হচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহালমহল।
প্রসঙ্গত এবারের নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত বেশকিছু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্রই হিংসার একই ছবি। শুধু যে বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা খুন হয়েছেন এমনটা নয়, নিহতের তালিকায় রয়েছেন শাসকদলের সদস্যরাও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে ময়দানে নামতে হয়েছে খোদ রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে। বিভিন্ন জেলায় ছুটে বেরিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎ করেছেন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে। আজও মুর্শিদাবাদে গিয়েছেন তিনি। সেখানেও দেখা করেন স্বজনহারা পরিবারের সঙ্গে। এছাড়া ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনারেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যপাল। পালটা আবার রাজ্যপালকে নিশানা করেছেন তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে রাজ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভাইরাল পোস্টগুলি শান্তির মলম লাগাতে পারে কি না এখন সেটাই দেখার।
