West Bengal Panchayat Election 2023 : কোথায় কে কাকে মেরে দেবে, কেউ সে গ্যারান্টি দিতে পারবে না: রাজীব – rajeev sinha is not willing to take responsibility for panchayat election violence in west bengal


এই সময়: পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘোষণা হয়েছিল ৮ জুন। সেদিন থেকেই বিরোধীদের নিশানায় ছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। তারপরে যত দিন গড়িয়েছে, শুধু বিরোধীরা নয়, রাজ্যে হিংসার জন্য রাজ্যপালও কাঠগড়ায় তুলেছিলেন নির্বাচন কমিশনারকে। যদিও শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দিনভর অশান্তির পরও তার দায় নিতে রাজি নন রাজীব।

তাঁর স্পষ্ট কথা, কমিশন ভোটের ব্যবস্থাপনা করে মাত্র। জেলায় কোথাও কেউ কাউকে খুন করলে বা গুলি করলে তা দেখার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। এদিন সকাল থেকেও কমিশনের অফিসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিংসা, হানাহানি ও অশান্তির হাজার হাজার অভিযোগ এসেছে।

এমনকী, রাজ্যের শাসক দলও অনেক জায়গায় বিরোধীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে। তারপরেও কমিশন এই হিংসার দায়িত্ব নিতে রাজি না-হওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এর আগেই বলেছেন, ভোটের প্রতিটি হিংসা ও রক্তক্ষয়ের জন্য কমিশনই দায়ী।

Panchayat Election 2023 : পঞ্চায়েত ভোট সামলাতে বিহার, ঝাড়খণ্ডের পুলিশ
এদিন দুপুরে রাজীব যখন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছেন, তখনই জেলায় জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ১০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। সকাল থেকেই কমিশনের কন্ট্রোলরুমে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ আসতে থাকে ফোনে। এর দায় কার?

রাজীব বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা সবসময়ে রাজ্য পুলিশের ব্যাপার। আমার কাছে খবর এলে আমরা পুলিশকে বলি। অনেক সময়ে পুলিশ নিজেই তদন্ত করে।’ এরপরেই তাঁর সংযোজন, ‘সন্ত্রাস আটকানোর দায়িত্ব কমিশনের নয়। এর দায়িত্ব জেলায় যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের। আমার দায়িত্ব ভোটের ব্যবস্থাপনা করার। সবরকম ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। তারপরে কেউ গ্যারান্টি দিতে পারবে না কোথায়, কে কাউকে মেরে দেবে বা গুলি করে দেবে।’

Suvendu Adhikari : দরজায় লাথি, কমিশনের ফটকে তালা ঝোলালেন শুভেন্দু
এদিন সকাল ১০টা নাগাদ কমিশনের অফিসে ঢোকেন রাজীব। বিরোধীদের বক্তব্য, সকাল ৭টা ভোট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেখানে হিংসাও শুরু হয়েছে, জেলায় জেলায় ব্যালট বাক্স ভাঙচুরও চলছে, হিংসার অভিযোগও আসতে শুরু করে দিয়েছে–তখন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার তিন ঘণ্টা পরে অফিসে ঢুকেছেন। এ থেকে বোঝাই যায়, তিনি পঞ্চায়েত ভোটকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এদিন অফিসে এসেই রাজীব কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল অফিসার বিএসএফের আইজি এসপি বুধাকোটির সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে ওই বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বুধাকোটি। রাজীব এদিন সাংবাদিকদের সামনে স্বীকার করে নেন, কিছু কিছু জায়গায় দুষ্কৃতীরা ব্যালট পেপার ছিনতাই করেছে, ব্যালট বাক্স ভেঙেছে।

West Bengal Election Commission : ‘ভোট শান্তিপূর্ণ না অশান্ত, বলার সময় আসেনি’, নজিরবিহীন সন্ত্রাসের মধ্যে মন্তব্য রাজীবের
তবে তিনি জানান, সব জেলার প্রিসাইডিং অফিসার ও জেলাশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তবে কতগুলি বুথে আবার ভোটগ্রহণ করা হতে পারে–তা এদিন রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। বিভিন্ন জেলা থেকে রিপোর্ট এলে আজ, রবিবারের মধ্যে তা ঠিক করা হবে।

এদিন দুপুর থেকে বিজেপি ও সিপিএমের প্রতিনিধিরা কমিশনের অফিসে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে দেখা করেন। এদিন সন্ধেয় নাটক শুরু হয় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কমিশনের অফিসে আসার সঙ্গে সঙ্গেই। শুভেন্দু রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসছিলেন।

Panchayat Election West Bengal: বল্গাহীন সন্ত্রাসের তুর্কিনাচ! পঞ্চায়েত ভোটে রক্ত দিয়ে হোলি খেলল বাংলা
গাড়ি থেকে তিনি নামতেই দেখেন, কমিশনের মেন গেট তালাবন্ধ। বিস্তর চিৎকার চেঁচামেচির পর কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা গেট খোলেন। সিঁড়ি বেয়ে বিরোধী দলনেতা তিনতলায় উঠতে গিয়ে দেখেন, সেখানেও কোলাপসিবল গেট তালাবন্ধ। গেট ধরে টানাহেঁচড়া করার পর কমিশনার নিজের ঘরে ডেকে নেন শুভেন্দুকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *