ফলে রাস্তা সাফাইয়ে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর পরেই নিকাশি নালা সাফাইয়ের দাবিতে প্রতীকি পথ অবরোধ করেন তাঁরা। যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। জলপাইগুড়ি শহরের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক বার উদ্যোগ গ্রহণ করে কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয় পুরসভার পক্ষ থেকে।
কিন্তু তারপরেও দুর্দশার হাত থেকে রক্ষা পাননি শহরবাসী। গতকাল রাত থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে ফের জলমগ্ন হয় শহরের একাধিক এলাকা। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুসারে গত ২৪ ঘণ্টায় জলপাইগুড়িতে বৃষ্টি হয়েছে ১৩২ মিলিমিটার। ফলে জল জমে যায় বিবেকান্দ পাড়া, পান্ডাপাড়া, মহামায়া পাড়া, নিউটাউন পাড়া, নিউ সার্কুলার রোড সহ একাধিক এলাকায়।
এই বিষয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান পাপিয়া পাল ফোনে দাবি করে বলেন, ‘প্রতি বর্ষার আগেই নিকাশি নালার সাফাইয়ের কাজ করা হয়। যে কারণে ভারী বৃষ্টিতে কিছু সময় জল জমে থাকলেও তা দ্রুত নেমে যাচ্ছে।’ অন্যদিকে নিকাশি নালার জল উপচে জলমগ্ন হয়ে পড়ে পাহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সঞ্জয় নগর কলোনী।
শুধু তাই নয় ওই জল আবর্জনা সহ উঠে আসে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সামনের রাস্তায়। স্থানীয় বাসিন্দা পিয়ালী সরকার বলেন, ‘আগে কখনও এমন হয়নি। কিন্তু সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের উলটো দিকে মেডিক্যাল কলেজের কাজ শুরু হওয়ার পরে জল যাওয়ার আউটলেট, বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন জায়গায় চিঠি দেওয়ার পরেও কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আজ এই কাজ করতে হয়েছে।’
একই বক্তব্য বাসিন্দা রাকেশ দেবসিংহ। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিকের বোতল, গ্লাস, ক্যারিব্যাগ সহ অন্যান্য আবর্জনা দিয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে নিকাশি নালা। তার ওপরে মেডিক্যাল কলেজের কাজ শুরু হওয়ার পরে জল যাওয়ার পথ আরও বন্ধ হয়েছে।’
এদিকে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘এখানে একটা পাকা নিকাশি নালা করার অনুমোদন হয়ে আছে। কিন্তু ভোটের কারণে সেটার কাজ শুরু হয়নি। কাজ হয়ে গেলেই সমস্যা মিটে যাবে।’
