ঝাড়গ্রামে হাতি খেদানোর মূল কাজ করেন হুলাপার্টির সদস্যরা। কারণ হাতি খেদানোর জন্য ঝাড়গ্রাম বনবিভাগে পর্যাপ্ত বনকর্মী নেই। হাতি তাড়ানোর কাজে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি ছাড়া কোনও রকম বাড়তি সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সোমবার সকালে ঝাড়গ্রামের একটি বেসরকারি গেস্ট হাউসে তাঁরা বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলার মানিকপাড়া, লোধাগুলি, ঝাড়গ্রাম, বেলপাহাড়ি, ভুলাভেদা, জামবনি, গিধনি, ছাতিনাশোল পড়িহাটি, শিলদা, হাতিবাড়ি রেঞ্জের হুলা পার্টির সদস্যরা।
তাঁদের অভিযোগ, ‘হাতির হানায় কেউ মারা গেলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পায়। কিন্তু সারারাত জেগে হাতি তাড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকা মজুরি মেলে। হাতি তাড়াতে গিয়ে কেউ মারা গেলে, তাঁর পরিবার কোনও উপরি সুবিধে পায় না।’ সাত দফা দাবি বন দপ্তরের কাছে এদিন তুলে দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবিগুলি হলো, হুলাটিমের সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম সমেত সেফটি কিট দিতে হবে, পরিচয়পত্র দিতে হবে, হুলা টিমের সদস্য মারা গেলে ন্যূনতম ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, মৃতের পরিবারের একজনকে এক মাসের মধ্যে চাকরি দিতে হবে, প্রতিদিনের মজুরি ৩০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৬০০ টাকা করতে হবে, হাতি তাড়ানোর কাজে হুলা টিমের সদস্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সদস্যদের বিমা সার্টিফিকেট দিতে হবে।
হুলা পার্টি কাজ বন্ধ করায় চিন্তায় পড়েছেন জেলার বনকর্তারা। ঝাড়গ্রামের ডিএফও পঙ্কজ সূর্যবংশী বলেন,’আমি বাইরে থাকায় রেঞ্জ অফিসারকে বলেছি, ওঁদের সঙ্গে কথা বলতে। আমাদের পক্ষ থেকে যে সমস্ত দাবি বা কাজ করা সম্ভব, তা অবশ্যই করা হবে।’ গত ১৪ জুলাই হাতি খেদাতে গিয়ে হুলাপার্টির সদস্য গৌরাঙ্গ মাহাতো ও তিলকা টুডু মারা যান। তারপরেই হুলা টিমের সদস্যরা হাতি তাড়ানোর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ও সরঞ্জাম সমেত নানা বিষয়ে বন দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাতি খেদানো বন্ধ করে দেন।
