এই প্রসঙ্গে সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক জানান, ‘গত কয়েক দিন ধরে শরীর ভাল যাচ্ছিল না। চিকিৎসকরা বিভিন্ন প্যারামিটার দেখে তাঁকে ভর্তি করতে বলছেন। তাঁর চিকিৎসা যেখানে হয়, সেখানেই তাই ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছি না। চিকিৎসকরা এদিন তার বাড়িতে যান। তারপর ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ পাশাপাশি সিপিএম নেতা রবীন দেব জানান, ‘চিকিৎসা চলছে, এখন কোনও অসুবিধা নেই। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন, বিপদ কেটেছে, জ্বর হয়েছিল, জ্বর কমেছে।’
জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমায় শহরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। সূত্রের খবর, মাঝে তৈরি হয় জটিলতা। রাস্তাতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার আরও কিছুটা অবনতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্স রওনা দেয় তাঁর বাড়ির উদ্দেশে। ২ জন ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসক-সহ ৪ জনকে নিয়ে উডল্যান্ডস হাসপাতাল থেকে রওনা দেয় অ্যাম্বুল্যান্সটি।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। করোনাকালে কোভিডেও আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। মাঝে বেশ কয়েকবার স্বাস্থ্যজনিত অবনতির জেরে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে তাঁকে। তবে প্রত্যেকবারই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন তিনি। বরাবরই হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা করাতে অনীহা রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। তাই খানিকটা সুস্থ হলেই বাড়ি ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়েই ওই বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছান রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। হাসপাতালে পৌঁছেই ভিতরে ঢুকে যান রাজ্যপাল। পরে বেরিয়ে এসে বুদ্ধবাবুর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন সি ভি আন্দ বোস। বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী ও সন্তান। এছাড়াও ধীরে ধীরে হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছচ্ছেন উদ্বিগ্ন দলীয় কর্মী সমর্থকেরা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন প্রত্যেকেই।
