দেবীপ্রসাদ দুয়ারীর মতে, চাঁদ যখন পৃথিবীর সবথেকে বেশি কাছে চলে আসে তাঁকে ‘সুপারমুন’ বলা হয়। শেষবার ২০১৮ সালের অগস্ট মাসে কলকাতা থেকে ‘সুপারমুন’ দেখা গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০৩৭ সালে ফের এই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকবে কলকাতা। চন্দ্রযান ৩ চাঁদে পাড়ি দেওয়ার আগে এই বিরল দৃশ্য দেখার সম্ভাবনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২৩ তারিখই চাঁদে পাড়ি দেওয়ার কথা চন্দ্রযান ৩-র।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে চাঁদ একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ২৭.৩ দিনে একবার পৃথিবীর চারপাশে যায়। কক্ষপথের কোনও এক সময়ে চাঁদ যখন পৃথিবীর থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে থাকে সেই পয়েন্টকে অ্যাপোজি বলা হয় আর চাঁদ যখন পৃথিবীর সব থেকে বেশি কাছে বিন্দুতে অবস্থান করে করে তখন তাকে পেরিজি বলা হয়। তাঁদের মতে, পেরিগির কাছে চাঁদ অবস্থান করলে তখনই সুপারমুন দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সাধারণ পূর্ণ আকারের চাঁদের তুলনায় ‘সুপারমুন’-এর আকার।
সাধারণত পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্ব ৩ লাখ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। তবে কক্ষপথে চাঁদের ঘোরার জন্য কখনও কখনও এই দূরত্বে তারতম্য ঘটে। পেরিগি থেকে চাঁদের দূরত্ব ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩০ কিলোমিটার এবং অ্যাপোগি থেকে চাঁদের দূরত্ব ৪ লাখ ৪ হাজার কিলোমিটার। মঙ্গলবার রাতে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কমে হবে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩০ কিলোমিটার এবং চাঁদ সূর্যের আলোয় ১০০ শতাংশ আলোকিত হবে।
দেবীপ্রসাদ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধে ৬ টা ১৭ মিনিটে ‘সুপারমুন’-এর চাঁদ উঠবে। ফলে পরিষ্কার আকাশ ও ভালো আবহাওয়া থাকলে সন্ধে বেলা থেকে ‘সুপারমুন’-এর চাঁদ দেখতে পারবেন শহরবাসীরা। ৩০ অগস্ট ‘সুপারমুন’ পৃথিবীর আরও কাছকাছি এগিয়ে আসবে বলে জানা গিয়েছে। একই মাসে দু’বার পূর্ণ আকারের চাঁদ দেখা যাওয়ার সুবাদে একে ‘ব্লু মুন’ ও বলছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অনেকেই।
