অয়ন ঘোষাল: গত ৬ ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে সরছে অতি গভীর নিম্নচাপরেখাটি। কিছুক্ষ আগে এটি বাঁকুড়ার কাছে অবস্থান করছিল, পুরুলিয়া থেকে প্রায় ৭০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। দ্রুত এটি পুরুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। এখন পুরুলিয়ার উপরই অবস্থিত। রাঁচি থেকে ১৮০ কিলোমিটার পূর্বে। এটি ঝাড়খণ্ডের দিকে ক্রমশ সরে যাবে। আগামী ১২ ঘণ্টায় এটি নিছক এক নিম্নচাপরেখায় পরিণত হবে। এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হবে। আগামীকাল থেকেই আবহাওয়ার উন্নতি হবে।
আরও পড়ুন: Typhoon Khanun: ১৭৩ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে মারাত্মক বিধ্বংসী ঝড় ‘খানুন’! কী হবে রাজ্যে?
আজ, বুধবার পুরুলিয়া বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। রাজ্যের বাকি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির আশঙ্কা। ৪ অগাস্ট থেকে বৃষ্টি আরও কমবে। তখন ফের বাড়বে তাপমাত্রা।
উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় বৃষ্টি চলবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে পার্বত্য জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। ২৪ ঘণ্টার পর থেকে ফের দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা বাড়বে। কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত হালকা ও মাঝারি ‘পাসিং শাওয়ার’ কলকাতায়। এর পর থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে কলকাতায়।
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গে জেলায় জেলায় রাতভর বৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই দফায় দফায় চলেছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আজ বুধবার সারাদিন বিভিন্ন জেলায় কোথাও ভারী, কোথাও অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে বলা হয়েছিল ঝোড়ো হাওয়ার কথাও। এই দুর্যোগ বৃহস্পতিবার বিকেলের আগে না কাটার সম্ভাবনাই বেশি।
বৃষ্টির জেরে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ইতমিধ্যেই জল জমে গিয়েছে। রবীন্দ্র সরণী, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, কলেজ স্ট্রিট, বেহালা, পার্ক সার্কাসের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে গিয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে কলকাতায় ৫৫টি রাস্তায় জল জমে রয়েছে। বেশিরভাগ রাস্তাতেই গোড়ালিসমান জল। আলিপুর আবহাওয়া দফতর এখনও পর্যন্ত ৮৭.১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।
হাওয়া অফিসের দাবি, রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। জানা গিয়েছে, আজ বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ঝাড়খণ্ড-লাগোয়া পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে। মাঝারি থেকে একটু ভারী বৃষ্টি হতে পারে হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা ও নদিয়ার একটা বড় অংশে।
আগে বলা হয়েছিল, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপের আকার নিচ্ছে। ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে সেটির বেশিরভাগটাই জলভাগ ও খানিকটা স্থলভাগের দিকে এগোচ্ছে। নিম্নচাপটি এখন দিঘা থেকে ১৬০ কিলোমিটার ও কলকাতা থেকে ৭০ কিলোমিটার পশ্চিম ও উত্তরপশ্চিমে রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে আজ দিনভর বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে চলতে পারে দমকা হাওয়া। বাতাসের গতি হতে পারে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। আজ সন্ধে পর্যন্ত বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা বেশ কম। আবহাওয়া উন্নতি শুরু হবে রাতের পর থেকে। কাল দুপুরে পর থেকে দুর্যোগমুক্ত হবে দক্ষিণবঙ্গ। তবে উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শুক্রবার ভোর থেকে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো জেলায় ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরে। এককথায় দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া বৃহস্পতিবার বিকেল বা তার পর থেকে দুর্যোগমুক্ত হবে। অন্য দিকে, ওই সময় থেকেই উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ হয়ে উঠবে।