Malda Ganga Erosion : গঙ্গা গিলে খেল অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, ভাঙন ভয়ে ঘুম উড়েছে রতুয়াবাসীর – malda ratua ganga river erosion plunged temporary police camp


মালদায় গঙ্গার ভাঙন নতুন কোনও ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিবছরই গঙ্গার গ্রাসে নদী গ্রাসে কাঁচা বাড়ি, বড়বড় গাছ ও বিঘার পর বিঘা জমি তলিয়ে যাওয়ার খবর আসে। তবে এবার গঙ্গা গিলে খেল অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার রতুয়ার মহানন্দাটোলায়। নদীর সর্বগ্রাসী রূপ দেখে আতঙ্কে ঘুম উড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

জানা গিয়েছে, রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের মহানন্দাটোলার শ্রীকান্ত টোলায় তৈরি করা হয়েছিল অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। রবিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ গঙ্গা নদীর গর্ভে তলিয়ে যায় অস্থায়ী ওই পুলিশ ক্যাম্পটি। পাশাপাশি ভাঙনের ফলে নদী গর্ভে তলিয়ে যায় মহানন্দাটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকশো বিঘা জমি। এবার নদী এগিয়ে আসছে গ্রামের দিকে। এউ বুঝি নদীর গ্রাসে চলে যায় বাড়িঘর, সেই আতঙ্কে রাতে দু’চোখের পাতা এক করতে পারছেন না ওই ২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষজন।

Ganga Erosion : মালদায় ফের গঙ্গা ভাঙনের জের , নদী গ্রাসে বিস্তীর্ণ এলাকা
এই প্রসঙ্গে শৈলেশচন্ত্র মণ্ডল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রত্যাকেদিন গঙ্গা নদীর জল বাড়ছে। জলের স্রোত ও বাতাসের ধাক্কায় মাটির নিচের অংশটা কেটে চলে যাচ্ছে। তার ফলে ওপরের অংশটা ভারী হয়ে যাচ্ছে, আর পড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ বিঘার মতো জমি চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। যেদিন বাতাস কম থাকে, সেদিন একটু কম কাটে। পুলিশ ক্যাম্প করা ছিল এখানে। জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙনের জন্য পুলিশরা স্থানান্তরিত হয়ে গিয়েছে। গত রাতে ক্যাম্পটা পড়ে গিয়েছে।’

Ganga Erosion : গঙ্গার ভাঙনে পরপর বাড়িতে ফাটল, আতঙ্কে কাঁপছে বৈদ্যবাটিবাসী
কেন্দ্রকে দুষলেন বিধায়ক

এদিকে এই ঘটনার জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার শিকার। বাংলার পাশাপাশি বিহার ও ঝাড়খণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিধায়ক বলেন, এই অবিজেপি রাজ্যগুলিকে ১০০ দিনের কাজের টাকা, আবাসের টাকা ও গঙ্গা ভাঙনের টাকা…, যাতে আমার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই, বিলুপ্ত হয়ে যাই, সেই চেষ্টা দিল্লির সরকার করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি, এই ভাঙন রোধ করা হোক।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘ফরাক্কা ব্যারেজ স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, পদ্মা গঙ্গা মিলে যাবে, আমার ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব। পূর্ব ভারত উত্তরবঙ্গের মালদা পর্যন্ত ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।’

Rainfall Forecast : সুবর্ণরেখার জলস্তর বৃদ্ধি, ভাঙল ৩ টি ব্রিজ
পালটা জবাব সাংসদের

অন্যদিকে উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মুর পালটা প্রশ্ন, ‘এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য রাজ্য সরকার কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কি? রাজ্যের তরফ থেকে কেন্দ্রকে কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি? কোনও প্রস্তাব তারা এতদিনে পাঠায়নি। আমি সাংসদ হওয়ার পর প্রায় ৮ থেকে ১০ বার বিষয়টা সংসদে তুলে ধরেছি। আমি মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বলেছি। মন্ত্রী একটাই উত্তর দিয়েছেন, কোনও প্রস্তাব রাজ্য সরকারের পক্ষ থেক আসেনি। বৈঠকে ডাকলেও কেউ আসেন না। তাহলে কী করে বিধায়ক কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন? আসলে নিজেদের দোষ আড়াল করার জন্য চাপিয়ে দিচ্ছেন। আমি সমর মুখোপাধ্যায়কে বলব, মুখ্যমন্ত্রীর ঘুম ভাঙান, আপনি প্রস্তাব পাঠান, তার কপি আমাকে দেবেন, আমি সাংসদ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে উপযুক্ত অর্থ যাতে বরাদ্দ হয় তার ব্যবস্থা করব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *