Jadavpur University Hok Kolorob:’আমার পথে যদি চলতেন…’, ‘হোক কলরব’ খ্যাত প্রাক্তন উপাচার্যের নিশানায় যাদবপুর কর্তৃপক্ষ – jadavpur university hok kolorob time vc abhijit chakraborty comments on swapnadip kundu death case


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করলেন প্রাক্তন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী। একইসঙ্গে ‘হোক কলরব’ খ্যাত উপাচার্যের অভিযোগ, পড়ুয়াদের ভালো রাখতে ও ক্যাম্পাসের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় নেওয়া সমস্ত পদক্ষেপ তাঁর বিরুদ্ধে রাজনীতি করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সস্তা ছাত্র রাজনীতির জনপ্রিয়তায় সেই সব পদক্ষেপকে নিস্ক্রিয় করে দেওয়া হয়।

প্রাক্তন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বর্তমান কর্তৃপক্ষকে দুষে বলেন, ‘এই যে ঘটনাটা ঘটল, তা হঠাৎ ঘটা দুর্ঘটনা নয়। আমি উপাচার্য থাকার সময় অনেকরকম ব্যবস্থা নিয়েছিলাম পড়ুয়াদের জন্য। যেমন, ক্যাম্পাস জুড়ে ফ্লাডলাইট, সিসিটিভি লাগানো। সব থেকে বড় পদক্ষেপ ছিল যাদবপুরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করা। হাইকোর্টও তাতে সায় দেয়। পড়ুয়াদের ভালো রাখতেই কঠোর পদক্ষেপগুলো করা। আন্দোলন করে আমাকে সরানোর সঙ্গে সঙ্গে ওই নিয়মগুলোও সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে তুলে দেওয়া হয়েছে। সব সিস্টেমগুলো ডিসমেন্টাল করা হয়েছে।’
Jadavpur University News: যাদবপুরে কীভাবে চলত ‘ব়্যাগিং’? মুখ খুললেন স্বপ্নদীপের সহপাঠী

স্বপ্নদীপের মৃত্যু ও র‌্যাগিংয়ের প্রসঙ্গ সম্পর্কে প্রাক্তন উপাচার্য বলেন, ‘আমি যাদবপুরের ভালো চেয়েছিলাম বলে আমাকে আন্দোলন করে সরানো হল। তাতে রাজনৈতিক মদতও ছিল। এসব ঘটনা যেন না ঘটে, আমি প্রতি দু মাস অন্তর হস্টেল ভিজিট করতাম। বহিরাগত কাউকে দেখলেই বলতাম, তোমরা যাও এখানে যারা পড়তে আসে এই ক্যাম্পাস শুধু তাদের জন্য। চেয়েছিলাম শুধু পড়ুয়ারাই ক্যাম্পাসে আসুক। ক্যাম্পাসে রাউন্ড দিতাম। অনৈতিক কাজ দেখলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতাম। নেশার আখড়া বন্ধ করতেই ক্যাম্পাস জুড়ে জোরালো আলো, ফ্লাড লাইট লাগানো। আমার সময় প্রায় সব কিছুই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ক্যাম্পাস একেবারে শুদ্ধ ছিল। আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সব বন্ধ করা হয়। আমি পদত্যাগের পর সব বন্ধ হয়ে গেল। আর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অপরাধীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে গেল।’
JU Student Death Case: কী হয়েছিল ওই দিন সন্ধেয়? মুখ খুললেন স্বপ্নদীপের ‘প্রত্যক্ষদর্শী’ সহপাঠী

অভিজিৎ চক্রবর্তীর অনুযোগ, ক্যাম্পাসের স্বার্থে তাঁর তৈরি করা নিয়মই নয়, সিসিটিভি গুলোকেও নিস্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। তিনি যে যাদবপুর মেইন হস্টেলের বাইরে সিসিটিভি লাগানোর কথা ভেবেছিলেন তাও জানান। এমনকী বহিরাগত প্রবেশ নিয়ে নিরাপত্তা রক্ষীদের ভূমিকার কথা উঠলেও ‘হোক কলরব’ খ্যাত উপাচার্যের দাবি, তাদেরও হাত পা বাঁধা। তাদের যথেষ্ট সমর্থন করে না বর্তমান কর্তৃপক্ষ।
Jadavpur University News: ‘ছেলেকে রড দিয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে’, স্বপ্নদীপের বাবার দাবিতে রুজু খুনের মামলা

যাদবপুরের প্রাক্তন উপাচার্যের আফসোস, তাঁর দেখানো পথে যদি বর্তমান হাঁটত তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না। হাইকোর্টের নির্দেশ কর্তৃপক্ষ অক্ষরে অক্ষরে পালন করলে বিশ্বজনীন খ্যাতি থাকা এই পাঁচতারা বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুরের গায়ে কলঙ্কের কালি লাগত না বলে দাবি অভিজিৎ চক্রবর্তীর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *